সুফিয়া কামালের জন্মদিন: কচি-কাঁচার আনন্দ আয়োজন

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৫, ১৯:২০
 
 
শনিবার কবি সুফিয়া কামালের ১০৪তম জন্মদিন। তার জন্মোত্সবকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কঁচি-কাচার মেলার পক্ষ থেকে আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় বর্ণিল হয়ে ওঠে জননী সাহসিকার জন্মদিনের অনুষ্ঠানমালা। মেলার শিশু শিল্পীদের গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নাচের মুদ্রায় অনবদ্য হয়ে আয়োজনটি। আর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সঙ্গে ছিল সুফিয়া কামালকে নিবেদিত বিশিষ্টজনদের আলাপন।
 
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক আবেদ খান। মায়ের স্মৃতিচারণ করেন কবিকন্যা সুলতানা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন মেলার উপদেষ্টা শামসুল হুদা। সভাপতিত্ব করেন মেলার পরিচালক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। এ ছাড়া, সুফিয়া কামালকে নিয়ে কথা বলেন শিশু বক্তা নিশাত। আয়োজনের শুরুতেই পরিবেশিত হয় মেলার শিশু শিল্পীদের সম্মেলক গান। সুফিয়া কামালের ছড়াকে গানে রূপান্তর করে সুরের আশ্রয়ে পরিবেশিত হয় ‘গোল করো না গোল করো না ছোটন ঘুমায় খাটে/এই ঘুমকে কিনতে হলো নওয়াব বাড়ির হাটে...’।
 
আলোচনায় কবির বৈচিত্র্যময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন আবেদ খান। তিনি বলেন, ‘সুফিয়া কামালের চেতনাকে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। সুফিয়া কামাল শুধু নারী আন্দোলনের অগ্রপথিক নন, সামগ্রিক সমাজ সংস্কারের প্রতীক ছিলেন। অবিচল ছিলেন আপন চেতনায়। আজ চারদিকে যেভাবে জঙ্গিবাদের আস্ফাালন দেখছি, তাতে বারবার সুফিয়া কামালের কথা মনে হয়। আমাদের এই প্রিয় খালাম্মা বেঁচে থাকলে রুখে দাঁড়াতেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে।’
 
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘কঁচি-কাঁচার মেলার তিনজন প্রতিষ্ঠাতার অন্যতম সুফিয়া কামাল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের চেতনাকে তিনি ধারণ করতেন গভীরভাবে। আর সেই চেতনার রুমালটি বহন করেছি আমরা। সেটাকেই ছড়িয়ে দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। নতুন প্রজন্মের কঁচি-কাচারা এগিয়ে নিয়ে যাবে সেই চেতনাকে।’
 
সুফিয়া কামালের মেয়ে সুলতানা কামাল বলেন, ‘মানুষকে মানুষ হতে জীবনের শুরু থেকেই সাধনায় ব্রতী হতে হয়। আর সেই সাধনায় নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন সুফিয়া কামাল। আজকের শিশুকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন ও অনুসরণ করতে হবে। সুফিয়া কামালের মতো মানুষেরাই মানসিক বিকাশের আলোয় এই দেশটিকে গড়েছেন। কখনো নিজের জন্য কিছু করেননি। করেছেন প্রতিটি মানুষের জন্য। আমৃত্যু ধারণ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।’
 

আলোচনা শেষে পরিবেশিত হয় নাচ, গান ও কবিতায় সাজানো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খুদে বন্ধুরা গানের সুরে, কবিতার ছন্দে ও নাচের মুদ্রায় মনোমুগ্ধ করে তোলে আয়োজনটি। ‘নাচ ময়ূরী নাচ রে...’ এবং ‘মাদলের ধিতাং ধিতাং বোলে...’ গানের  সুরে নৃত্য পরিবেশন করে মেলার একঝাঁক শিশুশিল্পী। দুই সারিতে বসে অনেক কচিকণ্ঠ এক সুরে গেয়ে গেয়ে শোনায় ‘মেঘের কোলে দুহাত তুলে  কোমল সুরে ডাকি বরষায়’, ‘জয় জয় জয় সুফিয়া কামাল’ এবং ‘হে মহিয়সী নারী’সহ বেশ কয়েকটি গান। পাঠ করা হয় ছড়া ও কবিতা।