শৃঙ্খলাহীন ক্ষুদ্র বাণিজ্য ও কারখানায় ভরা পুরান ঢাকা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:৪৯

পুরান ঢাকার অলিগলিতে নানান ধরনের ক্ষুদ্র কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা এবং দোকানপাটে কাজের সুযোগ হয়েছে লক্ষাধিক লোকের। এরমধ্যে শিশুশ্রমিক রয়েছে। তারা জীবিকার তাগিদে এখানে এসে কোনো না কোনো কাজ জোগাড় করে নিয়েছে।

শুধু চকবাজার ও আশপাশেই রয়েছে বিচিত্র ধরনের পণ্যের পাইকারি বাজার ও ক্ষুদ্র কারখানা। এসব কারখানায় সেলাই সুতা, চুড়ি থেকে শুরু করে মেটাল, প্লাস্টিক পণ্য— কি নেই। সবধরনের পণ্যের জন্যই বিখ্যাত এসব এলাকা থেকে দেশের অন্যত্র থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান। এক কথায় গোটা দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকাকে কেন্দ্র করে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। স্বকর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিটি ব্যক্তি আজ প্রতিটি পরিবারের বেঁচে থাকার অবলম্বন। যারা সরাসরি অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছে। শুধু অভ্যন্তরীণভাবে নয়, আশপাশের দেশগুলো থেকেও ব্যাপক হারে পণ্য আসে পুরান ঢাকায়। এখান থেকে চলে যায় দেশের সর্বত্র।

সরকারি তথ্যে দেখা যায়, পুরান ঢাকায় শুধু ক্ষুদ্র পোশাক কারখানার সংখ্যা প্রায় সহস্রাধিক। প্লাস্টিকজাত খেলনা বা অন্যান্য পণ্য তৈরির জন্যও চকবাজার এবং তার আশপাশের এলাকা বিখ্যাত। এখন কিছু কারখানা যদিও কামরাঙ্গীর চরে ঠাঁই নিয়েছে। এ ধরনের কারখানার সংখ্যাও হাজারের বেশি। আরো রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের কারখানা, খাদ্যপণ্য,  কাগজ, স্টেশনারি, প্রিন্টিং-প্যাকেজিং, কেমিক্যাল, ফার্মাসিউটিকেল প্রভৃতি পণ্যের কারখানা। আরো আছে মেশিনারি, ইক্যুইপমেন্ট, ইলেকট্রিকেল পণ্য, গাড়ি মেরামত, আসবাবপত্রের কারখানা, হস্তশিল্প, রিসাইক্লিং প্রভৃতি। 

সিরাজুল ইসলাম, চকবাজারের ইমিটেশন অলংকারের ব্যবসায় আছেন জানিয়ে বলেন, ঐতিহ্যগতভাবেই চকবাজার টিকে আছে এবং টিকে থাকবে। এটা ব্যবসার কেন্দ্র। দুর্ঘটনা ঘটেছে, এখন সবাই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় রয়েছে। তার মতে, কর্তৃপক্ষের অবহেলা, গাফিলতির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুরান ঢাকার ধোলাইখালে হালকা প্রকৌশল শিল্প উত্পাদকদের খ্যাতি এখন সারাদেশে। গাড়ি, কৃষি থেকে শুরু করে শিল্পখাতের অনেক যন্ত্রাংশই এখানে তৈরি হয়। এখানকার এক কারখানা মালিক আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্প আজকের অবস্থানে রয়েছে। শুধু কর্মসংস্থানই নয়, প্রযুক্তিগত উত্কর্ষ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়েও এসব কারখানার ভূমিকা রয়েছে। 

পুরান ঢাকায় রয়েছে আগুন, বিদ্যুত্ ও স্থাপত্য ঝুঁকি। কথা আছে, মানহীন নকল পণ্যেরও হদিস মেলে এখানকার বিভিন্ন অলিগলিতে। আবার ক্ষুদ্র কারখানাগুলোর যথাযথ নিবন্ধনও নেই। কারখানা কিংবা দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করলেও নিয়ম মানার উদাহরণ এখানে বিরল। এমনকি, অবকাঠামোগত সুবিধাদিও পর্যাপ্ত নয়। যে কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি চকবাজারের চুড়িহাট্টার আগুনের কারণে এ বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই আগুনে নিভে গেছে অনেকেরই জীবনপ্রদীপ। স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে অনেকের। তথাপি চেষ্টা হচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর, বেঁচে থাকার তাগিদেই।