২০১৩ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সন্ত্রাসবাদের ওপর নিজেদের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবিসি বলছে, শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী গেল বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে নিহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার কারণ হিসাবে প্রধানত ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও নাইজেরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের তৎপরতাকে দায়ী করা হয়েছে।
অপরদিকে পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল ও রাশিয়ায় হামলা হ্রাস পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাটি চালিয়েছে আইএস। ইরাকের মসুল শহরে শিয়া কারাবন্দিদের ওপর চালানো ওই হামলায় ৬৭০ জন নিহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএসের (আইএস) এলাকা দখলের ‘নজিরবিহীন’ ঘটনা, গোষ্ঠীটিতে বিদেশি সন্ত্রাসীদের যোগ দেয়ার প্রবাহ এবং পশ্চিমে ‘নিঃসঙ্গ’ উগ্রপন্থীদের হামলা ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের প্রধান ধরন ছিল।
খ্রিস্টান ও ইয়াজিদিদের মতো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যার পাশাপাশি পশ্চিমা সাংবাদিকদেরও হত্যা করা হয়েছে।
২০১৪ সালে আল কায়েদা ব্যাপকভাবে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও, ইয়েমেন, সিরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া ও ইরাকে মতো দেশগুলোর ব্যর্থ সরকারগুলোর জন্য মৌলবাদী চরমপন্থার সক্ষমতা প্রসারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০১৪ সালে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শিরশ্ছেদ ও গণফাঁসি দেয়ার মতো আরো আক্রমণাত্মক কৌশল ব্যবহার করেছে।
নাইজেরিয়া, ক্যামেরুনের উত্তরাঞ্চল ও নাইজারের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে তৎপর বোকো হারাম পাথর ছুঁড়ে হত্যা, নির্বিচার হত্যার জন্য হামলা ও শিশুদের অপহণের মাধ্যমে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সূত্র- বিবিসি, বিডিনিউজ
