বর্ণবৈষম্যের আদি বিষ সমাজে এখনো বিদ্যমান: ওবামা

আপডেট : ২০ জুন ২০১৫, ১৮:২১
 
 
 
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে আফ্রিকান-আমেরিকান চার্চে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘বর্ণবাদের অনিষ্টকর বিষ এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান।’ তিনি এ সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করার আহবান জানান। এ দিকে, খুনিকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন চার্লসটনে নিহতদের স্বজনরা।
 
দক্ষিণ ক্যারোলাইনা রাজ্যের চার্লসটন শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি শতবর্ষী পুরানো গির্জায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন খুনি ২১ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ তরুণ ডিলান স্ট্রম রুফ গির্জায় প্রবেশের পর গুলি করে কৃষ্ণাঙ্গ ছয়  নারী ও তিন পুরুষকে হত্যা করেন।
 
শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকোতে ভাষণদানকালে ওবামা বলেন, ‘খুনির কার্যক্রম স্পষ্টত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বর্ণবৈষম্যের আদি বিষ সমাজে এখনো বিদ্যমান এবং সবাই মিলে তা একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি, কিন্তু তারপরও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আর এ বিষয়টি যখন আমাদের যুবকদের মনকে কলুষিত করবে, তখন আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলবে। এর আগে চার্লসটনে নিহতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিশ্চুপ হয়ে যান বারাক ওবামা।
 
এ দিকে, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার রুফকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে চার্লসটনের আদালতে হাজির করা হয়। রুফের বিরুদ্ধে বাইবেল স্ট্যাডি গোষ্ঠীর ওপর  গুলিবর্ষণ ও নয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
শুনানিকালে আদালতের প্রশ্নের উত্তরে নিজের নাম, বয়স ও ঠিকানা নিশ্চিত করেন রুফ। নিজেকে বেকার বলেও স্বীকার করেন।  এ সময় গির্জার ভেতরে গুলিতে নিহত নয় ব্যক্তির কয়েকজনের আত্মীয়-স্বজন আদালতে সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান। বিচারকের আমন্ত্রণে রুফের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য নিহতদের আত্মীয়স্বজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
 
অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা সরাসরি খুনির সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কথা বলেন। এ সময় রুফের মধ্যে আবেগের কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি।
 
নিহত ইথেল লেন্সের কন্যা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে রুফকে বলেন, ‘আমার কাছ থেকে খুব মূল্যবান কিছু ছিনিয়ে নিয়েছ তুমি। আমি আর কখনো মার সঙ্গে কথা বলতে পারব না। আমি আর কখনো তাকে জড়িয়ে ধরতে পারব না। কিন্তু আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, আর ঈশ্বরও তোমাকে ক্ষমা করুন।’
 
মরার ভান করে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ফেলেসিয়া স্যান্ডার্স ভিডিও স্ক্রিনে রুফের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘বুধবার রাতে আমাদের বাইবেল পাঠের আসরে দুই বাহু বাড়িয়ে তোমাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম আমরা। অথচ  আমার জানা সবচেয়ে সুন্দর কয়েকজন মানুষকে তুমি খুন করেছ। আমার শরীরের সব তন্ত্রী আঘাতে জর্জরিত। আমি আর আগের মানুষটি হতে পারব না।’
 
আদালতের প্রকাশ করা নথিতে দেখা যায়—গুলি শুরু করার প্রায় ঘণ্টা খানেক আগে গির্জাটিতে প্রবেশ করেন রুফ। প্রার্থনারত লোকজনের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক সময় কাটানোর পর গুলিবর্ষণ শুরু করেন তিনি। হতাহতদের শরীরে কয়েকটি করে গুলি লেগেছে।
 
একই দিন রুফের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
 
তাতে বলা হয়, ‘শব্দ দিয়ে আমাদের আঘাতের সীমা প্রকাশ করা যাবে না। ওই রাতে যা হয়েছে তা অবিশ্বাস্য, এতে তীব্র মর্মপীড়ায় ভুগছি আমরা। যা হয়েছে তাতে প্রচণ্ড শোকে বিধ্বস্ত হয়ে গেছি আমরা।’
 
নিহতদের আত্মীয়-স্বজন এই ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা  প্রার্থনার আবেদন করে এবং ভালোবাসার কথা বলে আমাদের প্রচণ্ডভাবে নাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের কথায় আমরা সবাই শিহরিত।’
 
এই হত্যাকাণ্ডটিকে বর্ণবাদী ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে চার্লসটন পুলিশ। অপর দিকে, এ অপরাধটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। গুলিবর্ষণের ঘটনাটি আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্ত্রাস ও ভীতি ছড়ানোর জন্য করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। অন্য সব সম্ভাবনাও বিবেচনা করে দেখার কথাও জানিয়েছে তারা।  
 
বর্ণবৈষম্যের আদি বিষ সমাজে এখনো বিদ্যমান: ওবামা
 
অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ ক্যারোলাইনার চার্লসটনে আফ্রিকান-আমেরিকান চার্চে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘বর্ণবাদের অনিষ্টকর বিষ এখনো আমাদের সমাজে বিদ্যমান।’ তিনি এ সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করার আহবান জানান। এ দিকে, খুনিকে ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়েছেন চার্লসটনে নিহতদের স্বজনরা।
 
দক্ষিণ ক্যারোলাইনা রাজ্যের চার্লসটন শহরে কৃষ্ণাঙ্গদের একটি শতবর্ষী পুরানো গির্জায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন খুনি ২১ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ তরুণ ডিলান স্ট্রম রুফ গির্জায় প্রবেশের পর গুলি করে কৃষ্ণাঙ্গ ছয়  নারী ও তিন পুরুষকে হত্যা করেন।
 
শুক্রবার সান ফ্রান্সিসকোতে ভাষণদানকালে ওবামা বলেন, ‘খুনির কার্যক্রম স্পষ্টত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বর্ণবৈষম্যের আদি বিষ সমাজে এখনো বিদ্যমান এবং সবাই মিলে তা একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছি, কিন্তু তারপরও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আর এ বিষয়টি যখন আমাদের যুবকদের মনকে কলুষিত করবে, তখন আমাদের নীতি, নৈতিকতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে ফেলবে। এর আগে চার্লসটনে নিহতের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিশ্চুপ হয়ে যান বারাক ওবামা।
 
এ দিকে, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার রুফকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে চার্লসটনের আদালতে হাজির করা হয়। রুফের বিরুদ্ধে বাইবেল স্ট্যাডি গোষ্ঠীর ওপর  গুলিবর্ষণ ও নয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
 
শুনানিকালে আদালতের প্রশ্নের উত্তরে নিজের নাম, বয়স ও ঠিকানা নিশ্চিত করেন রুফ। নিজেকে বেকার বলেও স্বীকার করেন।  এ সময় গির্জার ভেতরে গুলিতে নিহত নয় ব্যক্তির কয়েকজনের আত্মীয়-স্বজন আদালতে সন্দেহভাজন খুনির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান। বিচারকের আমন্ত্রণে রুফের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য নিহতদের আত্মীয়স্বজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
 
অশ্রুসিক্ত নয়নে তারা সরাসরি খুনির সঙ্গে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে কথা বলেন। এ সময় রুফের মধ্যে আবেগের কোনো প্রকাশ দেখা যায়নি।
 
নিহত ইথেল লেন্সের কন্যা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে রুফকে বলেন, ‘আমার কাছ থেকে খুব মূল্যবান কিছু ছিনিয়ে নিয়েছ তুমি। আমি আর কখনো মার সঙ্গে কথা বলতে পারব না। আমি আর কখনো তাকে জড়িয়ে ধরতে পারব না। কিন্তু আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি, আর ঈশ্বরও তোমাকে ক্ষমা করুন।’
 
মরার ভান করে হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ফেলেসিয়া স্যান্ডার্স ভিডিও স্ক্রিনে রুফের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘বুধবার রাতে আমাদের বাইবেল পাঠের আসরে দুই বাহু বাড়িয়ে তোমাকে স্বাগত জানিয়েছিলাম আমরা। অথচ  আমার জানা সবচেয়ে সুন্দর কয়েকজন মানুষকে তুমি খুন করেছ। আমার শরীরের সব তন্ত্রী আঘাতে জর্জরিত। আমি আর আগের মানুষটি হতে পারব না।’
 
আদালতের প্রকাশ করা নথিতে দেখা যায়—গুলি শুরু করার প্রায় ঘণ্টা খানেক আগে গির্জাটিতে প্রবেশ করেন রুফ। প্রার্থনারত লোকজনের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক সময় কাটানোর পর গুলিবর্ষণ শুরু করেন তিনি। হতাহতদের শরীরে কয়েকটি করে গুলি লেগেছে।
 
একই দিন রুফের পরিবারের পক্ষ থেকেও তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
 
তাতে বলা হয়, ‘শব্দ দিয়ে আমাদের আঘাতের সীমা প্রকাশ করা যাবে না। ওই রাতে যা হয়েছে তা অবিশ্বাস্য, এতে তীব্র মর্মপীড়ায় ভুগছি আমরা। যা হয়েছে তাতে প্রচণ্ড শোকে বিধ্বস্ত হয়ে গেছি আমরা।’
 
নিহতদের আত্মীয়-স্বজন এই ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের মধ্যেও ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা  প্রার্থনার আবেদন করে এবং ভালোবাসার কথা বলে আমাদের প্রচণ্ডভাবে নাড়িয়ে দিয়েছেন, তাদের কথায় আমরা সবাই শিহরিত।’
 
এই হত্যাকাণ্ডটিকে বর্ণবাদী ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে চার্লসটন পুলিশ। অপর দিকে, এ অপরাধটি অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। গুলিবর্ষণের ঘটনাটি আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্ত্রাস ও ভীতি ছড়ানোর জন্য করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। অন্য সব সম্ভাবনাও বিবেচনা করে দেখার কথাও জানিয়েছে তারা।