বরিশালে বিকল হলো স্টিমার মাহসুদ, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৯, ২২:৫৩

ঢাকা-মোরেলগঞ্জ নৌপথে চলাচলকারী বিআইডব্লিউটিসি’র প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদ গতকাল রবিবার বরিশাল ঘাটে বিকল হয়ে পড়ে। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার যাত্রী ও রাত পৌনে ১১টার দিকে চাঁদপুর থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা হয় স্টিমারটি। গতকাল ভোর ৬টার দিকে স্টিমারটির বরিশাল থেকে ঝালকাঠী, কাউখালী, হুলারহাট, চরখালী, মাছুয়া, সন্যাসী ঘাটে যাত্রী পরিবহন শেষে দুপুর আড়াইটায় মোরেলগঞ্জে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু বরিশাল ঘাটে আর স্টিমারটি চালু হয়নি। মাহসুদ চালু না হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিআইডব্লিউটিসি স্টিমারটির মেরামত কাজ শুরু করে। পরে যাত্রীদের জানিয়ে দেয়া হয় স্টিমারটি মেরামত করা যাচ্ছে না। বাতিল করা হয় যাত্রা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্টিমারে থাকা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘাট ত্যাগ করতে থাকেন। এসময় ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

ঢাকা, চাঁদপুর ও বরিশালের ঘাট থেকে স্টিমারে ওঠা যাত্রীরা জানান, ঢাকা-খুলনা রুটে তাদের একমাত্র ভরসা বিআইডব্লিউটিসি’র স্টিমার। বিকল হওয়া মাহসুদের প্রথম শ্রেণির নিয়মিত কাউখালীর যাত্রী কাজী রুহিয়া বেগম হাসি ইত্তেফাককে জানান, ঢাকা থেকে কাউখালী যেতে প্রথম শ্রেণির কেবিনে গুনতে হয় ৩১শ টাকা। কিন্তু প্রথম শ্রেণির কেবিনের সুযোগ-সুবিধা মিলছে না।  স্টিমারটি প্রায়ই মাঝ নদী কিংবা ঘাটগুলোতে বিকল হওয়ায় দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না। স্টিমারের প্রথম শ্রেণিতে থাকা বিদেশি পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

বরিশাল-ঢাকা নৌপথ লাভজনক হওয়ায় বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানি একের পর এক বিলাসবহুল লঞ্চ বহরে যুক্ত করলেও প্রতি রাউন্ড ট্রিপে এক লাখ টাকা লোকসান গুনেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না সরকারি জাহাজ। বিআইডব্লিউটিসি ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের জন্য ছয়টি জাহাজের মধ্যে এমভি বাঙালী ও মধুমতি ব্যতিত বাকি পিএস অস্ট্রিচ, পিএস মাহসুদ, টার্ন ও লেপচা প্যাডেল স্টিমার।

বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান, মোরেলগঞ্জসহ অন্যান্য স্থানের যাত্রীদের বরিশাল নদীবন্দরেই নেমে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তারা নেমে যান। পাশাপাশি তাদের গন্তব্যের ভাড়াও ফেরত দেওয়া হয়েছে। স্টিমারটির কুলার ঠিক করার জন্য ওয়ার্কশপে পাঠানো হয়েছে। স্টিমারটি সোমবার বিকালে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যেতে পারে বলে তিনি জানান।