করদাতার গৃহসম্পত্তি বা বাড়িভাড়া খাতের আয়ের অনুমোদিত খরচের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের বিধানটি কঠোর হচ্ছে। মূলত করমুক্ত অনুমোদিত খরচে স্বচ্ছতা আনতে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে আগামী অর্থবছর থেকে। অর্থাত্ এখন থেকে গৃহসম্পত্তি খাত থেকে আয়ের অনুমোদিত খরচের যে অংশ খরচ হবে না, তার ওপর কর দিতে হবে।
বিদ্যমান আইনে আবাসিক বাড়ির আয়ের ২৫ শতাংশ ও বাণিজ্যিক ভবনের ৩৩ শতাংশ অনুমোদিত খরচ হিসেবে দেখানের সুযোগ রয়েছে। মূলত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, বিভিন্ন পরিসেবার বিল পরিশোধ অনুমোদিত খরচ হিসেবে দেখানোর সুযোগ রয়েছে। খরচ না করলেও বা খরচ হিসেবে না দেখালেও করমুক্ত এ অর্থ দিয়ে বৈধভাবেই করদাতার অন্যান্য সম্পদ বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ‘অনেক বাড়ির মালিক মেরামত বা রক্ষাণাবেক্ষণ বাবদ অনুমোদিত অর্থ খরচ করেন না। কিংবা খরচের প্রয়োজনও হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার কাছ থেকেই মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচের অর্থ আদায় করে থাকেন। কিন্তু আয়ের এ অংশের কর অব্যাহতির সুযোগ নিয়ে তারা অন্যান্য খাতে ব্যয় করেন বা সম্পদ বাড়িয়ে নেন। বিশেষত নতুন অ্যাপার্টমেন্ট, মোটর গাড়ি বা কোন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করে থাকেন। এমনকি অনেকে এ প্রক্রিয়ায় তাদের অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করে থাকেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়েছে, গৃহসম্পত্তি খাতের আয়ের অনুমোদিত খরচের অংশ যতক্ষণ পর্যন্ত খরচ হিসেবে না দেখানো হবে ততক্ষন পর্যন্ত তা আয় হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে ওই অর্থের উপর কর প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে এ ধরনের অর্থের অপব্যবহার রোধ এবং এ অর্থ থেকে কর ফাঁকির প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা করছে এনবিআর। আর এ অর্থ ব্যয় না করে ব্যয় দেখালে তা এনবিআরের কাছে অপ্রদর্শিত অর্থ হিসেবে গণ্য হবে যা এতদিন হতো না।
