জয়পুরহাটে চারজনকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ২০ জুন ২০১৫, ২৩:৪৬

জয়পুরহাটে শিশুপুত্র, শাশুড়িসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে ঘরজামাই সুমন হেমব্রম (৩২)। গতকাল শনিবার ভোররাতে জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর তালতলা আদিবাসী পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সুমন হেমব্রমকে গ্রেফতার করেছে। নিহতরা হলেন সুমনের শাশুড়ি সন্ধ্যা রানী মারান্ডি (৪৭), শ্যালিকা তেরেসা মারান্ডি (১৮), ফুফা শ্বশুর মারকেল মারান্ডি (৪২) ও বড় ছেলে সানী হেমব্রম (৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী সিলভিয়া জয়পুরহাট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।

 
জয়পুরহাটের সার্কেল এএসপি বিমান চন্দ্র ঘটনা সম্পর্কে বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কথা বলেছেন আটক সুমন হেমব্রমের সঙ্গে। সে জানিয়েছে, তার স্ত্রী সিলভিয়ার সঙ্গে মামাতো ভাইয়ের পরকীয়া চলছিল। এ নিয়ে সিলভিয়াকে কয়েকবার বোঝানোর চেষ্টা করে সে। পাশাপাশি বিষয়টি শাশুড়িকে জানিয়েছিল। কিন্তু শাশুড়ি তার কথায় কোন কর্ণপাত করেননি। এ কারণে সে স্ত্রী সিলভিয়া ও শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করে।  এ নিয়ে তার কোন অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছে সুমন হেমব্রম।
 
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার জয়দেবপুর দরগাপাড়া গ্রামের নবীন হেমব্রমের ছেলে সুমন হেমব্রম। প্রায় ১০ বছর পূর্বে ভীমপুর তালপাড়া গ্রামের মানিয়াল মারান্ডির মেয়ে সিলভিয়া মারান্ডীকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। এসময় এক ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের মা হয় সিলভিয়া। বড় মেয়ে সানু হেমব্রম (আড়াই বছর), ছোট মেয়ে স্নেহা (তিন মাস)।  শ্বশুর ও জামাই দু’জনেই ঢাকার একটি মোটর ওয়ার্কশপে কাজ করতো। গত ২৫ মে সুমন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে। শনিবার ভোরে ঘরের বাইরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সুমন তার স্ত্রীকে দা দিয়ে কোপ দেয়। স্ত্রী সিলভিয়া হাত দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে তার হাত দু’টি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। সন্তান দু’টিকে বাঁচানোর জন্য চিত্কার দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। মেয়ের চিত্কার শুনে মা সন্ধ্যা মারান্ডী (৪৭), বোন তেরেজা মারান্ডী (২৪), ছেলে ছানি হেমব্রম (৬) এবং কাজের লোক মরকেল মারান্ডী (৫০) ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পর্যায়ক্রমে সুমন তাদের কুপিয়ে হত্যা করে বাড়িতেই স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে। এসময় আহত স্ত্রীর চিত্কারে গ্রামবাসী ছুটে এসে থানায় খবর দেয়।
 

পাঁচ বিবি থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, পুলিশ লাশ ৪টি উদ্ধার করেছে এবং ঘাতক সুমনকে বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।