রাজধানীর পাশে সাভার জনপদের ওপর দিয়ে বংশী, তুরাগ, ধলেশ্বরী নদী বহমান। কিন্তু ভূমিখেকোদের কবলে পড়ে নদীগুলো এখন পরিণত হয়েছে ছোট্ট খালে। শিল্পনগরী সাভার যেন ভূমিদখলদারদের স্বর্গরাজ্য। নদীর দু পাশের শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে নদী খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। নদী, খাল, বিল, জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে মিল-কারখানা, বসতবাড়ি, দোকানপাট। ফলে শত শত কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি চলে যাচ্ছে ভূমিদস্যুদের হাতে। নদী হারাচ্ছে নাব্যতা। ভূমিদস্যু আর কতিপয় সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশে চলছে এ দখল বাণিজ্য এমনই অভিযোগ সাভারবাসীর।
বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী শাখা নদী ও একাধিক খালের তীর দখলের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রেখেছে ভূমিখেকোরা। এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও হাউজিং কোম্পানি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাভারে নদী দখল করা জমির মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকা বলে জানা গেছে। নদীর দুই ধার দখল করে নেয়ার ফলে নদী সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। তুরাগ, বংশী, ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করার জন্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ করলেও কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না নদী দখলের এ সর্বনাশা প্রবণতা। সম্প্রতি সাভারে খাল বিল জলাশয় রক্ষা কল্পে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও নিজেরা করি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, সাভার এখন বসবাসের অযোগ্য নগরীতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সাভারের পাশে তুরাগ নদীর অনেক জায়গাও বেদখল হয়ে গেছে। নয়ারহাট এলাকায় বংশী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে ব্যবসা কেন্দ্র। অনেকেই ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে এবং দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নদী-নালা, খাল, ডোবা, জলাশয় ভরাট করে অবৈধ দখলের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এসব সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করার জন্য ইতিপূর্বে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ নির্দেশের আলোকে জেলা প্রশাসক সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভূমি কর্মকর্তাকে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে ও চিহ্নিত করার নির্দেশ দিলেও সেটি আর করা হয়নি। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান জানান, নদী উদ্ধারের জন্য জাতীয়ভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। দেশের অন্যান্য অনেক স্থানের মতো সাভারেও অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। এছাড়া নদী, খাল, জলাশয় ভরাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
