ফরিদগঞ্জে স্ত্রী ফাতেমা (২০) ও শিশুপুত্র ফুয়াদকে (১০ মাস) পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে দিয়েছে এক পাষণ্ড ঘাতক। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতক রাসেলের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারাও হামলার শিকার হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সীমানায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার আদশা গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার ৬নং গুপ্টি ইউনিয়নের আদশা গ্রামের হাজী বাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাসেলের সাথে পার্শ্ববর্তী রামগঞ্জ উপজেলার রাঘরপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের মেয়ে ফাতেমার সাথে দুই বছর পূর্বে বিয়ে হয়। নিহত ফাতেমার ভাই মনির হোসেন বলেন, আমার বোন আমাদের বাড়িতে ছিল। শনিবার রাতে ফাতেমার (২০) স্বামী রাসেল ঢাকা থেকে আসবে বলে জানালে বোন দশ মাস বয়সী ছোট্ট শিশু ফুয়াদকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসে। রবিবার সকালে তারা জানতে পারে ফাতেমা ও তার ছেলের লাশ বাড়ির পার্শ্ববর্তী ডোবায় পড়ে রয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা তাই দেখতে পান।
ফাতেমা (২০) ও শিশু ফুয়াদ (১০ মাস)-এর পোড়া লাশ দেখে ক্ষিপ্ত ফাতেমার বাবা আব্দুল গফুরসহ ও রামগঞ্জ থেকে আসা স্বজনরা রাসেলের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির সব লুটপাট করে বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পুলিশ উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এসময় এসআই ইব্রাহীম, কনস্টেবল শাহাজাহানসহ তিনজন আহত হয়। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবদিন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হকসহ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে বিকাল ৪টায় লাশ উদ্ধার করে। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি নাজমুল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য চাঁদপুর পাঠানো হয়েছে।
কিশোরের ঝুলন্ত লাশ
রবিবার সকালে ফরিদগঞ্জ পুলিশ উপজেলার ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের সেকদি গ্রামে ঢাকার হোটেল কর্মচারী শাহ আলম (১৪) নামে এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। নিহত শাহ আলমের মা রাবেয়া জানান, শনিবার বিকালে তার ছেলে ঢাকা থেকে আসলেও রবিবার সকালে লাশ হিসেবেই ছেলেকে কাছে পান তিনি।
