কবি তোমায় জন্মদিনের আশীর্বাণী

আপডেট : ২২ জুন ২০১৫, ০০:৪৮

মঞ্চের সামনে মোম ও ফুলের পাপড়ি দিয়ে লেখা হয়েছে ‘৭১’। গতকাল রবিবার ৭১ বছরে পা দিয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বাংলাদেশ ইকোলজি অ্যান্ড অটিজম ফিল্ম ফোরাম ও জাতীয় কবিসভার উদ্যোগে শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের সেমিনার কক্ষে দিনব্যাপী কবির জন্মদিন উদ্যাপিত হলো গতকাল। তবে মূল আয়োজন ছিল বিকাল ৫টায়।

 
কবিকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন দেশের বরেণ্য কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিগণ। গুণীজনদের আলোচনায় উঠে আসে গুণের নানা গুণ। কবি-ছড়াকার আসলাম সানীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধন হয় অনুষ্ঠানের। তিনি বলেন, ’৭১ আমাদের স্বাধীনতার বছর। আমাদের স্বাধীনতার কবি নির্মলেন্দু গুণ পা রাখছেন ৭১ বছরে। ৭১ বছরে পা দিয়ে কবি আবারও শুভ সংখ্যার দিকে পা বাড়াচ্ছেন। ‘আমাদের প্রিয় কবির বয়স ৭১ শুরু হয়েছে, এটি মেনে নিতে ইচ্ছা করে না। কবির বয়স আরও তিরিশ/চল্লিশ বছর কম হলে ভালো লাগতো। কিন্তু এই বয়সেও তিনি তরুণই আছেন।’ বলেছেন তপন বাগচী। মিলন সব্যসাচী আবৃত্তি করেন কবির ‘রক্তগোলাপ’ কবিতাটি। এরপর শুরু হয় ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত ছিলেন রাজনীতিবিদ নূহ-উল-আলম লেনিন, নাট্যজন মামুনুর রশীদ, কবি মোহাম্মদ সামাদ, মোহাম্মদ নূরুল হুদা, সোহরাব হাসান, বিমল গুহ, মাহবুব আজীজ,  সৌমিত্র শেখর প্রমুখ। সকাল ১১টায় শুরু হয়েছিল জন্মদিনের আয়োজন। শুরুতে ছিল নির্মলেন্দু গুণের রচনা অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী।
 
চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর শুরুতে দেখানো হয় নির্মলেন্দু গুণ অভিনীত নাটক অস্পষ্ট। এতে তিনি অভিনয় করেছেন রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায়। এরপর দেখানো হয় তার কবিতা অবলম্বনে নির্মিত কবি মাসুদ পথিকের পরিচালনায় সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। উত্সবে এটি দেখানোর পাশাপাশি দেখানো হয়েছে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হুলিয়া’। এটিও কবির বিখ্যাত ‘হুলিয়া’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত। এছাড়া ছিল নতুন একটি চলচ্চিত্রের ঘোষণা। নির্মলেন্দু গুণের ‘মানুষ’ কবিতা এবং নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘অমলকান্তি’ অবলম্বনে তৈরি হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য পোয়েট্রি’ বা ‘কবিগাছ’। এটি তৈরি করছেন মাসুদ পথিক। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে দেয়া হয়েছে নতুন এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এতে নির্মলেন্দু গুণ অভিনয় করবেন।
 
নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকের জনপ্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্য ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’। কবিতা, গদ্য, উপন্যাস, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ও ভ্রমণকাহিনী, তার অবাধ বিচরণ সাহিত্যের বহু শাখাতেই। ‘না প্রেমিক না বিপ্লবী’, ‘কবিতা, অমীমাংসিত রমণী’, ‘দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী’, ‘চৈত্রের ভালবাসা’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘চাষাভূষার কাব্য’, ‘দুঃখ করো না বাঁচো’, ‘দুর হ দুঃশাসন’, ‘ইয়াহিয়া কাল’, ‘আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও’, ‘মুঠোফোনের কাব্য’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
 
ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে
 
যোগ দিবসে অনুষ্ঠান
 

বিশ্ব যোগ ব্যায়াম দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে ‘সবার জন্য যোগ’ শীর্ষক সেমিনার, যোগ ব্যায়াম প্রদর্শনীর আয়োজন করে ভারতীয় হাইকমিশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি)। সহায়তায় ছিলেন ইউনাইটেড নেশন্স সিস্টেম ইন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ যোগ অ্যাসোসিয়েশন্স। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এর আগে দিবসের তাত্পর্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশেষ অতিথি জাতিসংঘের রেসিডেন্ট  কোঅর্ডিনেটর ও ইউএনডিপির রেসিডেন্ট প্রতিনিধি রবার্ট ডি. ওয়াটকিনস ও বাংলাদেশে যোগ অ্যাসোসিয়েশন্সের সভাপতি মোহাম্মদ হারুন। এর পর অতিথিদের ফুল ও যোগ ব্যায়ামের বিশেষ টি-শার্ট উপহার দিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক জয়শ্রী।