বাংলাদেশের কারাগারে অবশিষ্ট সাজা ভোগ করার শর্তে ফেরত দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বাদল ফরাজিকে। ওই সাজা ভোগ না করা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত নথিপত্র অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার) ইত্তেফাককে বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যেসব কাগজপত্র এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে বাদল ফরাজিই প্রকৃত আসামি। তিনি সঠিকভাবেই কারাগারে আছেন। এক্ষেত্রে সরকারের কোন অবহেলা বা ভুল নেই। তিনি বলেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অব দ্যা ট্রান্সফার অব প্রিজনারস’-(টিএসপি) চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই চুক্তির মূল শর্ত ছিল অবশিষ্ট সাজার মেয়াদ বাংলাদেশের কারাগারে ভোগের নিমিত্তে তাকে ফেরত পাঠানো হলো। ফলে এই চুক্তি অনুযায়ী বাকি সাজা ভোগ না করা পর্যন্ত তাকে মুক্তি দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাদল ফরাজির মুক্তি চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বাদলের আটকাদেশ কেন বেআইনি ঘোষণা এবং আদালতের সামনে তাকে কেন হাজির করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ওই রুলের প্রেক্ষিতে সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত নথিপত্র গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পাঠায়।
বাদল ফরাজি ১১ বছর আগে শখের বশে তাজমহল দেখতে পর্যটক ভিসায় ভারতে যান। বেনাপোল সীমান্ত পার হতেই বিএসএফ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে এক বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দিল্লির সাকেত আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ওই সাজাই বহাল রাখে দিল্লি হাইকোর্ট। রায়ের পর থেকে তিহার কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। গত বছরের জুলাই মাসে টিএসপি চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে সরকার।
