বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংকট নিরসনে সহায়তা হিসেবে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ঘোষিত ২০১৯ সালের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি) জন্য দেওয়া ৬ কোটি ডলারের অতিরিক্ত। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের জেআরপিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ সাড়ে দশ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রবিবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৭-এর আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৪৫ কোটি ডলারের মতো ছিল বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় মানুষের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সহায়তার অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী খাবারের সংস্থান করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান জানিয়েছেন আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সপ্তাহে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ২৩ হাজার পরিবারকে (একেক পরিবারের চার-পাঁচজন) অর্থাত্ এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের জন্য। শিগগিরই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর শুরু হবে। সেখানকার অবকাঠামো ঠিক হয়েছে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা তৈরি। ঘর, বিদ্যুত্, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, বেড়ীবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার— সব কিছু তৈরি আছে।
