বোয়ালখালীতে তেলবাহী ওয়াগন খালে পড়ার ঘটনায় তেল অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারী বর্ষণ ও খালে জোয়ার ভাটার কারণে তেল অপসারণ কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ভাসমান তেল অপসারণের পর গাছপালায় লেগে থাকা ফার্নেস অয়েল পুনরায় খালের পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে খালে নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় দ্রুত অয়েল বুম সরিয়ে নিতে স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছে।
তেল অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, এলাকাবাসী বিক্ষিপ্তভাবে তেল সংগ্রহ করছে। এই পর্যন্ত ১৬০ লিটার ফার্নেস অয়েল পাওয়া গেছে। মানুষের কাছেও উদ্ধার হওয়া অনেক তেল রয়েছে। তারা একসঙ্গে বিক্রির জন্য রেখেছে। তবে গাছের সঙ্গে লেগে থাকা ছাড়া পানিতে আর কোন তেল নেই।’
গতকাল মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো পানি থেকে ভাসমান ও গাছে লেগে থাকা ফার্নেস অয়েল অপসারণে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করেছে। খালে অয়েল বুম দিয়ে পানির প্রবাহ আটকে রেখে পানি থেকে তেল নৌকায় তোলা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানান, বৃষ্টির কারণে গাছে লেগে থাকা ফার্নেস অয়েল পুনরায় খালের পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে তেল অপসারণের কাজ আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) জাফর আলম বলেন, নদীতে আর ভাসমান তেল নেই। সাগরে চলে গেছে। কচুরিপানা ও গাছের সঙ্গে লেগে থাকা তেল বৃষ্টি বা জোয়ারের সময় পুনরায় পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। অয়েল বুমের কারণে খালে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা খালে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে অয়েল বুম সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছে। তাই আজ বুধবার অয়েল বুম সরিয়ে ফেলা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, খালে ডুবে যাওয়া তেলবাহী ওয়াগন দু’টি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ রূপে তেল অপসারণ সম্ভব নয়। রেল সেতুর মেরামত কাজ শেষে ট্রেন চলাচল করতে পারলে ডুবে থাকা ওয়াগনের উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। এ প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার রমজান আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতুর মেরামত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২/১ দিনের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে খালে পড়ে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারের উদ্ধার কাজ শুরু হবে।