গাইবান্ধায় ৫০ শিক্ষার্থীর অজান্তে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৫, ০০:১০

সাদুল্লাপুর উপজেলায় জয়েনপুর আদর্শ কলেজের বিরুদ্ধে ভর্তির নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থীর অজান্তে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনের মাধ্যমে এসএমএস প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শকের নিকট লিখিত অভিযোগ করে।

 
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, কোন শিক্ষার্থীকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা জোরপূর্বক অনলাইন বা মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তায় (এসএমএস) আবেদন পাঠানো দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাইস্কুল থেকে চলতি বছর এসএসসি পাস ৫০ শিক্ষার্থী ভাল কলেজে ভর্তির আশায় গত কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনের দোকানে ও বিভিন্ন কম্পিউটার সেন্টারে গিয়ে অনলাইনে এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করতে যায়। কিন্তু আবেদন করতে গিয়ে দেখে তাদের এসএমএস আগেই দেয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারে, জয়েনপুর আদর্শ কলেজের জনৈক এক শিক্ষকের এক মোবাইল ফোন থেকে ৫টি কলেজের নামের জায়গায় শুধু জয়েনপুর আদর্শ কলেজের নাম উল্লেখ করে প্রতারণামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের অজান্তে এই আবেদন পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫/৬ বছর থেকে জয়েনপুর আদর্শ কলেজের অভ্যন্তরীণ (অধ্যক্ষ সাথে কলেজ পরিচালনা কমিটি) কোন্দলের কারণে কলেজটির একাডেমিক কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে কলেজটি। তাই চলতি বছর ওই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে ওইসব ছাত্রছাত্রীর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইনে এসএমএস’র মাধ্যমে আবেদন পূরণ করেন। যাতে ৫টি কলেজের নামের জায়গায় শুধু জয়েনপুর আদর্শ কলেজের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে কলেজের একটি মুঠোফোন থেকে ওই কলেজে ভর্তি ফরম পূরণ করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের এসএমএস দেয়া হয়। 
 

জয়েনপুর আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ-উল-ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, অভিযোগ শুনে খোঁজ নিয়ে দেখি— আমার একজন শিক্ষক তার এলাকার একজন শিক্ষার্থীকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণে সহায়তা করেছে। সেই শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তি হবে, সেটা বলেনি। তাই ওই শিক্ষক আমার কলেজে ভর্তির জন্য ফরম পূরণ করে দেয়। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। শিক্ষার্থীর অজান্তে ভর্তি আবেদন ফরম পূরণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ দেয়ার বিষয়ে আমি জানি না।