ফরমালিন কিংবা বিষযুক্ত খাবারে যখন ক্রেতাদের নাভিশ্বাস চরমে, তখনি বিষমুক্ত সবজি ক্রেতাদের নাগালে দিতে কাজ করছে কৃষক বাজার। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিকভাবে না করে কিছুটা সেবার মানসিকতা নিয়েই কৃষক বাজারের উদ্যোক্তারা এটি শুরু করেন। এর যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। প্রাথমিক অবস্থায় কৃষক বাজারের কার্যক্রম ছোট ছিল। বর্তমানে এর কার্যক্রম ব্যাপক হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে সব ধরনের ফলমূল, তরিতরকারি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে বিষাক্ত পদার্থের মিশ্রণ দেয়া হচ্ছে। কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে এমনভাবে বিষাক্ত পদার্থের মিশ্রণ দেয়া হচ্ছে যা কিনা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষক বাজার সাধারণ ভোক্তাদেরকে বিষমুক্ত এবং তরতাজা কৃষিজাত পণ্য দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম এলাকায় শহরের মুরাদপুর এলাকায় সেলস্ সেন্টার চালু করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে কৃষি বাজারের সেলস্ সেন্টার খোলা হয়েছে। ‘কৃষক বাজার’ মূলত মুনাফা লাভের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনকারী এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতিবছর ব্যাপক পরিমাণে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন ধরনের ফল উত্পন্ন হচ্ছে। কৃষক বাজারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ফলের বাগানের মালিকদের কাছ থেকে এসব ফল সংগ্রহ করে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ভোক্তারা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ফল সূলভ মূল্যে পাচ্ছে। ফলের বাগানের মালিকরা ও তাদের উত্পাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য লাভ করছে। ফলমূল ছাড়াও মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, শাকসবজি একইভাবে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কৃষক বাজারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, বর্তমানে চট্টগ্রামের পাবর্ত্য অঞ্চলগুলোতে বেসরকারি উদ্যোগে অনেক ফলজ, বনজ, দুগ্ধ, মত্স্য, শাকসবজি এবং পোলট্টি খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে যেসব পণ্যসামগ্রী উত্পাদিত হচ্ছে সেগুলো স্বাভাবিকভাবে বাজারজাত করতে পারছেন না। বাজারজাত করতে গিয়ে খামারের মালিকদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি বলেন কৃষক বাজারের পক্ষ থেকে এসব খামারের মালিকদের যথাসম্ভব সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা আমাদের কার্যক্রমকে ব্যাপক পর্যায়ে নিতে পারছি না। চট্টগ্রাম শহরের স্থায়ী কোন জায়গা না থাকায় আমরা আমাদের সংগৃহীত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। সরকারের তরফ থেকে কোন জায়গা লীজের ব্যবস্থা হলে আমাদের সমস্যা অনেকখানি মিটে যাবে। চট্টগ্রাম শহরে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চল থেকে পণ্যসামগ্রী পরিবহনের জন্য ফ্রিজার ভ্যানের ব্যবস্থা করা জরুরি।
‘কৃষক বাজার’ উদ্যোগে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। আগামীতে চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলো আর্থিক দিক থেকে সমৃদ্ধশালী স্থানে পরিণত হবে। ‘কৃষক বাজার’ জাতীয় অর্থনীতির চাকাতে গতিশীল করতে সবসময় সচেষ্ট থাকবে। চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক চাষাবাদের লক্ষ্যে কৃষকদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে উন্নত প্রশিক্ষণ অল্প সুদে ব্যাংক ঋণ সহযোগিতা প্রয়োজন।
