‘২০১৯ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে মাঠে লড়তে চাই’

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৫, ১৬:৪৭
 
 
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘দেশে আগাম নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। আপনি নির্বাচন, রাজনীতি ও আন্দোলন-সবখানে পরাজিত হয়েছেন। বিএনপি থাকুক, আমরা চাই। আপনিও রাজনীতির মাঠে থাকুন, আপনি সুস্থ ও ভালো থাকুন। ২০১৯ সালে আপনার সঙ্গে মাঠে লড়াই করতে চাই। ওই নির্বাচনে আপনার সঙ্গে ফাইনাল খেলা হবে, আপনাকে হোয়াইটওয়াশ করা হবে। ফাঁকা মাঠে আর গোল দিতে ইচ্ছা করে না। আমরা খেলেই গোল দিতে চাই।’
রবিবার জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সমঝোতা হবে, তবে কোনো খুনি কিংবা ঘাতকের সঙ্গে নয়। যাদের জন্য গণতন্ত্র হবে না, তাদের সঙ্গে আপোষও হবে না। খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময় যেভাবে কথা বলছেন, তা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। উনি বর্তমান সরকারকে জালেম বলেন, কিন্তু তার মতো জালেম এ দেশে আর কেউ নেই।’
নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গি দমন হয়েছে, সেটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্র বলছে। জঙ্গি দমন শিখতে হলে শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করতে হবে—ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে এসে এ কথা বলে গেছেন।’
‘বিএনপির ৫০ হাজার নেতা-কর্মী জেলে রয়েছে’ খালেদা জিয়ার এ অভিযোগের জবাবে নাসিম বলেন, ‘জেলখানার ধারণক্ষমতা ৬০ হাজার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে সকালেই খবর নিয়েছি সারা দেশে কারাগারে ৭০ হাজার বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে খুনি রয়েছে, চোর, ডাকাত এমনকি ছিঁচকে চোরও রয়েছে। তাহলে কোথায় বিএনপির ৫০ হাজার নেতা-কর্মী? তারা কোন দেশে আছে? খালেদা জিয়া, আপনি কথা বলার সময় হিসাব করে বলুন।’
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বাড়ানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘এমপিরা অ্যাম্বুলেন্স চান। আমি প্রস্তুত রেখেছি, টাকার অভাবে আনতে পারছি না। গ্রামে আগে ডাক্তার থাকতে চাইতেন না। এখন গ্রামে-গ্রামে ডাক্তার। গত দুই বছরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে রেকর্ড-সংখ্যক ৬ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দিয়ে গ্রামে পাঠানো হয়েছে। গ্রামে সরকারি হাসপাতালই একমাত্র ভরসা। সেখানে ল্যাবএইড নেই, ইউনাইটেড নেই। ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। এই স্বাস্থ্যসেবা চালাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। দেশের মানুষ মোটা ভাত, মোটা কাপড় পেয়েছে। এখন স্বাস্থ্যসেবা চায়, সেটি আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ৪ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য প্রায় তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এতে স্বাস্থ্য খাতের জন্য ১২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।