চট্টগ্রাম বন্দরে ভোজ্যতেলের সঙ্গে কোকেন আটকের ঘটনায় তদন্তে আসছে ব্রিটিশ ও আমোরিকান টিম। আগামী সপ্তাহে এ টিমের ঢাকায় পৌঁছাবার কথা রয়েছে। অপরদিকে কোকেন পাচারের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। আটক করা ড্রামে ৬০ থেকে ১২০ কেজি কোকেন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে আটক হওয়া কোকেনের গন্তব্য ছিল উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের কোনো দেশ।
তবে চালানটি বন্দরে আসার প্রায় দুই সপ্তাহ পর দেশের বাইরের একটি সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চালানটির অবস্থান জানতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খানকে অবহিত করেন। পরে ব্যাপক অনুসন্ধানের পর গত ৬ জুন রাতে ১০৭ ড্রাম ভর্তি কনটেইনারটি সিলগালা করা হয়। তবে যে প্রতিষ্ঠানের নামে চালানটি আনা হয় (চট্টগ্রাম খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেড) সে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। তবে পুলিশ খানজাহান আলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি কোকেন থাকার কথা অস্বীকার করেন। ৮ জুন মাদক শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপির উপস্থিতিতে তেলের নমুনা পরীক্ষা করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের টিম। কিন্তু প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের নমুনা সনাক্ত হয়নি। এ অবস্থায় পুলিশ গোলাম মোস্তফাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য নতুন নমুনা পাঠানো হয় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরীতে। পরে দুই পরীক্ষাগারে জব্দ করা ৯৬ নম্বর ড্রামের নমুনায় কোকেন সনাক্ত হয়।
