বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি বেড়েছে ভাঙন

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৫, ০০:৪৩

বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় বান্দরবান, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। তবে একই সঙ্গে বেড়েছে নদী ভাঙনের তীব্রতা। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর অনেক স্থানে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চকরিয়া ও রামুতে গতকাল রবিবার আরও ৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বরিশালে কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

 
বরিশাল অফিস জানায়, সেখানে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বেলতলা ফেরিঘাট ও খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে একাধিক শিপ-ইয়ার্ডসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। পার্শ্ববর্তী চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানের মূল সড়কসহ বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন কীর্তনখোলা ও আড়িয়াল খাঁ নদী একত্রে মিলে গেছে। শুধু কীর্তনখোলা নয়, ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে মেঘনা, তেতুলিয়া, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ, কালাবদর, মাছ কাটা, ইলিশা, জয়ন্তী ও কারখানা নদী পাড়েও। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুসহ বহু স্থাপনা।
 
সুন্দরবন শিপ-ইয়ার্ডের স্বত্বাধিকারী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, গত বছর বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে বেলতলার পুরানো ফেরিঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। তখন বেশ কিছু দোকানপাটসহ শিপ-ইয়ার্ডের অনেকাংশ নদীগর্ভে চলে যায়। তার অভিযোগ- পানি উন্নয়ন বোর্ড তখন ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার আবার ভাঙনে তার শিপ-ইয়ার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা নদীতে বিলীন হতে বসেছে। এলাকার ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন জানান, তার দোকানসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে এ পর্যন্ত ৭/৮ বার স্থান পরিবর্তন করেছে। কিন্তু ভাঙন অব্যাহত থাকায় এখনো হুমকির মুখে রয়েছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। স্থানীয়দের অভিযোগ বর্ষা মৌসুমে ভাঙন শুরু হলে জিও ব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলে দীর্ঘমেয়াদে ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয় না। যে কারণে একই পয়েন্টে এবার আবার ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সাবু অভিযোগ করেন, মাত্র ৪ লাখ টাকার জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে ঠিকাদার ১০ লাখ টাকা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে উত্তোলন করে নিয়ে গেছে। সঠিক কাজ না হওয়ায় নদী ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
 
নদী ভাঙনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক থেকে মহিশাদি পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা সেখানকার মানিককাঠি ও রাকুদিয়া গ্রামের। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন জানান, সেতুর গোড়ায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ঐ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাইস  মিল, স-মিলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়ি। রাকুদিয়ায় আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ও রহমতপুর বিমান বন্দর রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকির মুখে।
 
কারখানা নদীর ভাঙনে বাকেরগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা, দুর্গাপাশা ও কবাই এলাকার বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। মেহেন্দীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ জানান, তার উপজেলার ১৩ ইউনিয়নই নদী বেষ্টিত। মেঘনা, তেতুলিয়া, কালাবদর, মাছকাটা ও ইলিশা নদীর ভাঙনে এ সব ইউনিয়নের মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছে। উপজেলা সদরের পাতারহাট লঞ্চঘাট ও কালীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, বরিশালের ১০ উপজেলার ২৬টি পয়েন্টের নদী ভাঙন প্রতিরোধের জন্য গৃহীত প্রকল্পে ৪১০ কোটি টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। অধিকাংশ প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে। অনুমোদন হলে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বাবুগঞ্জে ৬ দিন ধরে টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের নুতনচর রাজগুরু, কুমারিয়ার পিট, ক্ষুদ্রকাঠী আশ্রয়ণ, কেদারপুর ইউনিয়নের ছানিকেদারপুর, পূর্ব ভুতেরদিয়া, চর উত্তর ভুতেরদিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও আদর্শ আশ্রয়ণ প্রকল্প, মাধবপাশার মুুশুরিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ ২০/২৫টি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। আড়িয়াল খাঁ, সুগন্ধা, সন্ধ্যা নদীর চরাঞ্চলের মানুষের অবস্থা খুবই নাজুক। পরিবার নিয়ে তারা প্রায় না খেয়ে আছে। পানি বৃদ্ধির কারণে শিশুরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ধানের বীজতলা ও রবি শষ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
 
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, এ উপজেলায় গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কাঁচা রাস্তাঘাটে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর এলাকার কিছু পাকা রাস্তা ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই বাজারে হাঁটু পানি জমে যায়। এছাড়া পৌর শহরের মাইপরশপাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাহামুহুরী নদীর পানিও কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বান্দরবান সদর, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিম্নাঞ্চলের অনেকস্থানে এখনো বন্যার পানি রয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকার ত্রাণ বরাদ্দ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি তারা।
 
প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকালে বান্দরবানে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে বানের পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরছে মানুষ। ঘরের মধ্যে জমে যাওয়া কাদামাটি এবং ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত লোকজন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েল এবং রিংওয়েলগুলো বানের ময়লা পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যা ও পাহাড় ধসে বান্দরবানে প্রায় পঞ্চাশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা এবং ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আজও শুরু করেনি প্রশাসন।
 
এদিকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বরদুয়ারা এলাকায় প্রধান সড়কের উপর থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তবে বান্দরবান-রাঙামাটি, রুমা, থানছি এবং লামা-সূয়াল এ অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ এখনো চালু হয়নি। পাহাড় ধসে সড়কে মাটি জমে যাওয়ায় সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
 
লামা উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী জানান, লামায় বন্যায় ২০ হাজারেরও বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা শহর থেকে বন্যার পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলের অনেকস্থানের মানুষ এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখনো অবস্থান করছে কয়েক হাজার মানুষ। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএসএম শাহেদুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাইশারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম, ঘুমধুম ইউনিয়নের দুটি গ্রাম এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও দৌছড়ি এলাকা। বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট ভেঙ্গে গেছে।
 
জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার দেয়া হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭০ হাজার টাকা ও ৫০ মেট্রিক টন চাল ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
 
কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর জেলা সদর, রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন। পানি কমলেও নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রামের মানুষ এখনো পানিবন্দি রয়েছে। অন্যদিকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত হাজার হাজার মানুষ ত্রাণসামগ্রী না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অভিযোগ, সরকারি ত্রাণের বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম, তবে প্রশাসনের দাবি, প্রতিটি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে রবিবার সকালে চকরিয়া ও রামু থেকে আরও ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ২ জন চকরিয়ার, ১ জন রামুর, অপরজন ঢলের পানিতে নিহত সদর উপজেলার খুরুস্কুল আদর্শ গ্রামের তিন বছরের শিশু। এ নিয়ে জেলায় গত তিন দিনে মৃতের সংখ্যা ২২ জনে উন্নিত হলো। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা জানান, জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৪৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১১ লাখ টাকা, ৫০ বস্তা চিড়া বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা করে নগদ সাহায্য দেয়া হয়েছে। এখনও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। শহরের কলাতলী অংশে দু’টি স্থান ভেঙে যাওয়ায় সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেনাবাহিনী সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে।
 
জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার কমরুউদ্দিন বলেছেন, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ৮৮টি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে। সবাই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চিকিত্সা সেবা দেবে। যদিও এখনো ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ তেমনটি দেখা দেয়নি।
 
যশোর অফিস জানায়, অব্যাহত বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন গোটা জেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষ। সপ্তাহখানেক ধরে যশোরে থেমে থেমে আষাঢ়ের বৃষ্টি শুরু হলেও গত তিনদিনে তা ভারি বর্ষণে রূপ নিয়েছে। এতে শহরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
 
যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, ভারি বর্ষণে শহরের বেজপাড়া, শংকরপুর, মিশনপাড়া, উপশহর, চাঁচড়া, কারবালা, এমএম কলেজ এলাকা, টিবি ক্লিনিকপাড়া, নাজিরশংকরপুর, বকচর, আবরপুরসহ শহরের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার ড্রেন ছাপিয়ে উপচেপড়া পানি সড়ক পার হয়ে ঘরের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। ভেসে গেছে বিভিন্ন এলাকার পুকুর ও মাছের ঘের। এ মাছ ছড়িয়ে পড়ায় ড্রেন ও সড়কের উপরে সৌখিন মত্স্যশিকারীদের তত্পরতাও দেখা গেছে।
 
এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সচিব আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, পৌর এলাকার ড্রেন সংস্কার ও নির্মাণ কাজ চলায় কোনো কোনো এলাকায় পানি নিষ্কাশনে কিছুটা দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত পানি সরিয়ে ফেলতে তাদের তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে।
 
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ৮ দিনের টানাবর্ষণ এবং যমুনা ও করতোয়া নদীতে নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উল্লাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল আবার প্লাবিত হয়েছে। লাহিড়ীমোহনপুর, উধুনিয়া, বড়পাঙ্গাসী, বাঙ্গালা, সলপ, পূর্ণিমাগাঁতী ও পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এসব গ্রামের প্রায় ৩০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ডুবে গেছে। এদিকে টানাবর্ষণে উপজেলার উল্লাপাড়া-লাহিড়ীমোহনপুর, উল্লাপাড়া-বেলকুচি, উল্লাপাড়া-কামারখন্দ ও উল্লাপাড়া-কৃষকগঞ্জ বাজার আঞ্চলিক সড়কসমূহের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
 

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৩০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। প্লাবিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি ওঠায় রান্না করা যাচ্ছে না। গৃহপালিত গবাদি পশু নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন মহাবিপাকে। পানিবন্দি গ্রামগুলো হচ্ছে- মাদারপুর, বিলাশপুর, ধানশাইল, জিগাতলা, হাতিবান্দা, মালিঝিকান্দা, বনগাঁও, চতল, রামনগর, দিঘীরপাড়া, ছুরিহাড়া, বেলতৈল, কোণাগাঁও ঘাগড়া, শালধা প্রভৃতি। পানিবন্দি এলাকার লোকজন কলার ভেলা ও নৌকাযোগে যাতায়াত করছে।