ঋণ ও আমানতের সুদের গড় ব্যবধান সামান্য কমেছে

আপডেট : ২৯ জুন ২০১৫, ০২:৪০

ব্যাংক খাতে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) সামান্য কমেছে। গত মার্চ শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে চার দশমিক ৮৭ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়ায়। আর এপ্রিল শেষে তা আরো কমে চার দশমিক ৮৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী ব্যাংকগুলোর গড় স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টে রাখার কথা। দীর্ঘদিন ধরে এ নির্দেশনা মানার জন্য ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কোন ভাবেই স্প্রেড পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে নামছিল না। এদিকে সবগুলো ব্যাংক মিলে স্প্রেড নির্ধারিত মাত্রায় থাকলেও দেশে কার্যরত ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংক এ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সে নির্দেশনা অমান্য করেছে।

 
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এপ্রিল শেষে আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে সাত দশমিক চার শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল সাত দশমিক ছয় শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে ঋণের গড় সুদহার হয়েছে ১১ দশমিক ৮৮ শতাংশ। যা আগের মাসে ছিল ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
 
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর সবগুলোতেই নির্ধারিত মাত্রার মধ্যেই রয়েছে স্প্রেড। তবে বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার আরও ২২টি ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টর উপরে রয়েছে। এপ্রিল শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণে গড় সুদ হার ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশে। আর বিদেশী ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার তিন দশমিক ৩৯ হলেও ঋণের ক্ষেত্রে সুদহারের পরিমাণ ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
 
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতোই বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানতের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। বিদেশি মালিকানার হাবিব, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ব্যাংক আল ফালাহ বাদে অন্যগুলোর স্প্রেড নির্ধারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্প্রেড রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। এ ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান ১০ দশমিক ০৩ শতাংশীয় পয়েন্ট। এর পরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ, ওয়ান ব্যাংকের ব্যাংকে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং উত্তরা ব্যাংকের ঋণ-আমানতের ব্যবধান রয়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশীয় পয়েন্ট। এছাড়া এবি, দি সিটি, আইএফআইসি, পূবালী, এনসিসি, ঢাকা, এক্সিম, প্রিমিয়ার, ব্যাংক এশিয়া, ট্রাস্ট, ফার্মার্স ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের স্প্রেড ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি। এদিকে, এসব ব্যাংকের গড় স্প্রেড দাঁড়িয়েছে পাঁচ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্টে।
 

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে  সেপ্রড কোনো অবস্থাতেই ৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না বলে নির্দেশ দিয়েছিল।