নিম্নমধ্য আয়ের দেশ হওয়া তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ০০:৫০

বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যআয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এটা এক তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি। এমডিজির (জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ লক্ষ্যসমূহ) ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুবই আশাব্যঞ্জক। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট এ কথা বলেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে এটা তার দ্বিতীয় বৈঠক। এই দীর্ঘ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকও উপস্থিত ছিলেন।

 
মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূর করতে হবে। এই লক্ষ্যে সকলের জন্য রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক ব্যাপারে আমরা বরাবর যা বলেছি, এখনও বলছি যে, এটি বাংলাদেশের নিজস্ব এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আমাদের সহায়তা চাওয়া হলে আমরা সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুত আছি। পবিত্র রমজান মাসে ইফতার কেন্দ্রীক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, অনেক কিছুই হচ্ছে। পবিত্র রমজান হলো অনেক ভাল কিছু হওয়ার সময়।
 
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা হচ্ছে উল্লেখ করে মার্শা বার্নিকাট বলেন, ‘ইউএসএআইডির মাধ্যমে উন্নয়ন সহায়তা, বিচার ক্ষেত্রে, শ্রমমান অনেক ইস্যুতে অনেক প্রকল্প আছে। এখানে কমিউনিটি পুলিশের প্রশিক্ষণ হচ্ছে যাতে তারা বাংলাদেশের জনগণের জন্য কাজ করতে পারে। আমরা এই ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতেও দেখতে চাই।
 
রাষ্ট্রদূত বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে মানবপাচার বিরোধী লড়াইয়ে যেভাবে বাংলাদেশ কাজ করছে তাতে আমরা খুশি। বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে নতুন কর্মপরিকল্পনা হয়েছে। আমরা কীভাবে একত্রে কাজ করতে পারি সেটা চিন্তা করছি।
 
জিএসপি সুবিধা বাংলাদেশ ফিরে পাবে কিনা এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, জিএসপি বিষয়টি মার্কিন কংগ্রেস দেখাশোনা করে থাকে। কংগ্রেস চায় শ্রমমানের উন্নতি। এটা শুধু শ্রমিকের নিরাপত্তার অগ্রগতি নয়; বরং কর্মীদের সমিতি করার অধিকারও। এটা শুধু তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রেই নয়; আমরা সকল ক্ষেত্রেই এটা দেখতে চাই।
 
বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে বিবিআইএন উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় যে মোটরযান চুক্তি হয়েছে, তাকেও স্বাগত জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, এই ধরনের সহযোগিতা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করবে।
 

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মানবাধিকার প্রতিবেদন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বেশ কিছু অগ্রগতি হওয়ার কথা আছে। তবে এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো, জনগণকে আরো ভাল করার তাগিদ দেয়া এবং জবাবদিহিতা বাড়ানো। বছর ধরে আমাদের উদ্বেগ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে কোনও অগ্রগতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে নতুন কিছু নেই। আমরা এই সফরের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।