৫০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সাসপেন্ড উপ-পুলিশ কমিশনার

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ০৯:৪৮
বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ২৩০ পুলিশ সদস্যের পদোন্নতির জন্য ‘ঘুষের তহবিল’ সংগ্রহের অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমান গতরাতে  ৫০ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন । সোনালী ও ব্রাক ব্যাংকের দু’টি চেকের মাধ্যমে জিল্লুর রহমান তার হিসাব নম্বর থেকে ঐ টাকা ফেরত দেন।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী ইত্তেফাককে জানান, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদের নিকট দু’টি হিসাব নম্বর থেকে ২৫ লাখ করে ৫০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেছেন। চেক দু’টি রবিবার ডাচ ব্যাংককে খোলা পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যের জন্য তহবিলের হিসাব নম্বরে জমা দেয়া হবে। ঐ একাউন্টে আরো ১৭ লাখ টাকা রয়েছে। ডাচ বাংলা ব্যাংকের হিসাব নম্বরটি  বিএমপির এএসআই আনিসুজ্জামান, নায়েক কবীর হোসেন ও চালক বাবলু মজুমদারের যৌথ নামে খোলা  হয়েছিল। 
 
ঘটনার অনুসন্ধানে থাকা পুলিশের সিকিউরিটি সেল বিএমপি কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরীকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। 
 
তদন্ত কমিটির প্রধান পুলিশ সিকিউরিটি সেল এর অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক আলমগীর আলম জানান, এত বড় অপরাধের দায়ভার পুলিশ কমিশনার এড়াতে পারেন না । তাই তাকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। 
 
সিকিউরিটি সেল অনুসন্ধানে নেমে জানতে পারেন প্রায় কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল কতিপয় অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা। একজন উপ-পুলিশ কমিশনারকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হলেও পুরো বিষয়টি পুলিশ কমিশনারসহ অপর উপ-পুলিশ কমিশনারগণ জানতেন। এমনকি কোথায় কাকে কত টাকা দেয়া হবে তা পর্যন্ত অবগত ছিলেন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী। 
 
যদিও বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের আগেই বিষয়টি আমরা জানতে পেরে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। পুলিশ সদর দপ্তর তদন্তে নেমেছেন পরে। টাকা উত্তোলন ও বণ্টন বিষয়ে তার কিছুই জানা ছিল না বলে ইত্তেফাককে জানান। 
 
ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিল্লুর রহমানসহ বিএমপি’র ১১ পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্ব-রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বশেষ গত বুধবার উপ-পুলিশ কমিশনার জিল্লুর রহমানকে সাসপেন্ড করে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেন। এ আদেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জিল্লুর রহমান ৫০ লাখ টাকা ফেরত দিলেন। 
 
ডাচ বাংলা ব্যাংকে জমা হওয়া টাকা পুলিশ সদস্যদের ফেরত দেয়ার জন্য উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আবু রায়হানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে। 
 
এর আগে ২৭ জুন ঘুষ তহবিল গঠনের দায়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের তিন এএসআই, এক নায়েক ও ছয় কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
 
বিএমপি সূত্রে জানা গেছে, বিএমপি’র সৃষ্ট প্রায় ২৩০ পদে পদোন্নতি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পদোন্নাতিপ্রত্যাশী পুলিশের প্রতি সদস্যের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয়। ইতিমধ্যে ৭৭ লাখ টাকার তহবিল গঠন করেন তারা।
 
যার মধ্যে বিএমপির এএসআই আনিসুজ্জামান, নায়েক কবীর হোসেন ও চালক বাবলু মজুমদারের যৌথ হিসাব নম্বরে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া যায়। বরিশালের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শাখায় ওই হিসাব নম্বর খোলেন তারা। বাকি টাকা বরিশালের এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে রয়েছে বলে তারা জানান। ঐ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা জিল্লুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে বিএমপি সদর দপ্তরে হস্তান্তর করেন।