সিসির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক মুসলিম ব্রাদারহুডের

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৫, ১৫:৪২
 
 
মিসরের ক্ষমতাসীন সিসি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড। বুধবার কায়রোতে পুলিশ কমপক্ষে নয় ব্রাদারহুড সদস্যকে হত্যার পর সমর্থকদের উদ্দেশে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি। খবর আল জাজিরার।
 
ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এবং তার বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। এক বিবৃতিতে জেনারেল সিসিকে ‘কসাই’ আখ্যা দিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুড দাবি করেছে—তাদের নেতাদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।
 
এতে আরো বলা হয়েছে, ‘বিদ্রোহে অংশ নিতে রাস্তায় নেমে আসুন, আপনাদের দেশকে, নিজেদের ও আপনাদের সন্তানদের রক্ষা করুন। সিসির নির্যাতন ও জুলুমের নিরাপদ দুর্গ ধ্বংস করুন এবং আরেকবার মিশরকে বাঁচান।’
 
এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সিসি তার পতন ডেকে এনেছে এবং আন্দোলনের নতুন অধ্যায়কে স্বৈরশাসক কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে  হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্রাদারহুড।
 
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে—মুসলিম ব্রাদারহুডের আটক নেতা-কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সমর্থন দেয়ার কাজে গিয়েছিলেন ওই সব নেতা। কিন্তু কোনো ধরনের তদন্ত অথবা অভিযোগ ছাড়াই রাজধানী কায়রোর পশ্চিমে একটি ভবনের ভেতরে অভিযান চালিয়ে ঠান্ডা মাথায় তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে।
 
তবে মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছে—ওই ভবনে রাষ্ট্র-বিরোধী কার্যকলাপের পরিকল্পনা চালানোর সময় কয়েকজন যুবককে আটক করা হয়। তাদের কাছে অর্থসহ দলিল পাওয়া গেছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল তারা।
 
ব্রাদারহুড এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
 
এর আগে বুধবার দেশটির সিনাই প্রদেশে অস্ত্রধারীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৭ সেনাসহ অন্তত ১০০ জন নিহত হন। এরপর কায়রোতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরই মধ্যে কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭৫ ছাত্রীকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড’-এ যুক্ত থাকার দায়ে বহিষ্কার করা হয়। এখন পর্যন্ত এ রকম অপরাধে দেশটিতে ২০০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে মিসরের পরিস্থিতি সহিংসতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা।