সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৫, ১৩:১৯
সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলেদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না। জেলেরা সাগরে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসছেন। 
 
আলাপকালে জেলেরা জানান, এ বছর জেলেরা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ শিকার বন্ধ রাখলেও এর কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না। পরিবার পরিজন নিয়ে অভাবে রয়েছেন তারা। 
 
পাথরঘাটা উপজেলার জেলে বাদল জোমাদ্দার বলেন, ঘরে চাল নাই, সাগরে ইলিশ নাই, মাছ না পড়লে মোরা খামু কি? গত এক হপ্তা ধইরা জালে মাছ ধরা পড়ে নাই। যে টাহা খরচ করছি হেইয়া পুরাটাই লস। মহাজনরা দাদন দিছিল, মাছের জন্য তাগেদা দেয়।
 
বৈশাখ মাস থেকেই সাগরে ইলিশ ধরা পড়ার কথা। অথচ আষাঢ় অর্ধেক পেরিয়ে গেছে। স্থানীয় মহাজন, দাদন ব্যবসায়ী, আড়ৎদারসহ মৎস্যজীবী শ্রমিক সবাই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। সাগর থেকে ফিরে ট্রলারগুলো এসে থামছে তালতলীর ফকিরহাট ও পাথরঘাটার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। কিন্তু আশানুরূপ ইলিশ মিলছে না। কেউ কেউ সামান্য কিছু ইলিশ পেলেও তা অতি সামান্য। 
 
পাথরঘাটা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন জানান, প্রতি বছর এমন দিনে আড়তে গড়ে এক থেকে দেড়শ মণ ইলিশ আসে। এখন ১০ থেকে ১৫ মণ ইলিশ পাওয়াই কঠিন। বাইরে থেকে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন।
 
কয়েকজন দাদন প্রদানকারী আড়তদার-মহাজন শঙ্কা প্রকাশ করেন, ট্রলার প্রতি জেলেদের এক থেকে দেড় লাখ টাকা দাদন দেয়া হয়। মাছ ধরা না পড়লে সেই টাকা ফিরে আসবে না।
 
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বাজার ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল জানান, ঘাটের শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে । এদের পরিবারে ঈদ উদযাপনও হবে না।
 
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বঙ্কিম চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ইলিশ মাছ ধরা পড়ার বিষয়টি অনেকাংশে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও মাছের কমতি বোঝা যাচ্ছে না।