গ্রিন ব্যাংকিং বিষয়ে ব্যাংকগুলোতে সচেতন করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সচেতনতা মূলক কাজ শেষ হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন তা বাস্তবায়ন করছে। তবে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর পরিকল্পনা অনেক বড় হলেও বাস্তাবায়নের ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বরং পরিবেশবান্ধব খাতে ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমের ত্রৈমাসিক-ভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে—চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) সবুজ অর্থায়নে ব্যাংকগুলো আট হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। যা আগের তিন মাসে ছিল ১৪ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। সে হিসাবে ব্যাংকগুলোর সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ কমেছে ছয় হাজার ২০৪ কোটি টাকা বা ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
একই সময়ে জলবায়ু ঝুঁকি তহবিলে বিনিয়োগ মার্চ প্রান্তিকে তিন কোটি ৭৭ লাখ টাকা কমে ৯ কোটি ৬ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এক কোটি ৮৯ লাখ কমে দুই কোটি ৯৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী—চলতি বছর ব্যাংকগুলোর (নতুন ব্যাংক ছাড়া) মোট বিনিয়োগের পাঁচ শতাংশ এ খাতে অর্থায়নের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে ২০১৫ সালে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ২৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। কিন্তু মার্চ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ করেছে। ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় খাতের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিকে গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমে ৭৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। যা ডিসেম্বর’১৪ প্রান্তিকে ছিল ১৬৭ কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো সাত হাজার ৯৭ কোটি টাকা গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমে ব্যয় করেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল নয় হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো গ্রিন কার্যক্রমে অর্থায়নে এক হাজার ১০৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল এক হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা। আর নতুন অনুমোদন পাওয়া নয়টি ব্যাংক মার্চ প্রান্তিকে ৩১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল দুই হাজার ৯১ কোটি টাকা।
এ ছাড়া, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৩৮৭ কোটি টাকা গ্রিন কার্যক্রমে বিনিয়োগ করেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৯৮৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গত প্রান্তিকে ৬০২ কোটি টাকা অর্থায়ন কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ব্যাংকগুলোর নিজস্ব গ্রিন ব্যাংকিং পলিসি ও গ্রিন ব্যাংকিং ইউনিট এ খাতে বরাদ্দ করেছে। এছাড়া অর্থায়ন এবং অর্থায়িত প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি নিরূপণ করছে। ব্যাংকগুলো সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি ও ইটিপি সংযুক্ত প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব ভবন, পরিবহন ব্যবস্থা, পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অংশগ্রহণের ওপর ভিত্তি করে নতুন তালিকা তৈরি করছে। এতে দেখা গেছে, সব কটি ব্যাংক গ্রিন ব্যাংকিং ইউনিট গঠন ও নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থাকে গ্রিন ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা। এলক্ষ্যে কৃষি খাতের মতো গ্রিন ব্যাংকিং খাতেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাধ্যতামূলক বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে বিভিন্ন কারণে দেশের সার্বিক ঋণ বিতরণই কমে গেছে। তাই পরিবেশবান্ধব খাতেও ঋণ বিতরণ কিছুটা কমেছে।
