চট্টগ্রাম বন্দরে তেলের ড্রামে কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় রাজু নামে এক ভারতীয় ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে কোকেন পাঠানোর পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল লন্ডনে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বকুল মিয়া। তার ব্যবসায়িক অংশীদার ভারতীয় নাগরিক রাজু।
কোকেনের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ভারত হয়ে পশ্চিম ইউরোপ অথবা উত্তর আমেরিকায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল পাচারকারী চক্রের। এতে অর্থের জোগান দেয় রাজু। ইন্টারপোলের সহায়তা নিয়ে বকুল মিয়া ও রাজুসহ এই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশ। সিএমপি’র ডিসি (ডিবি) কুসুম দেওয়ান শরিবার ইত্তেফাককে এ তথ্য জানান।
এদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপির এসিডিবি (উত্তর) কামরুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, আটক কোকেনের নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নেয়ার জন্য আজ রবিবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিচালক (নিরাপত্তা) এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনারের আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা বন্দর থানার এসআই বদরুল মামুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম ফরিদ আলম গত ৩০ জুন এক আদেশ দেন। এতে ৫ জুলাই বন্দর ও কাস্টমস প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শুনানি করার দিন ধার্য করেন।
মামলার তদন্তকারী সূত্র জানায়, ঘটনা তদন্তে ডিসি (ডিবি) কুসুম দেওয়ানকে প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কোকেন উদ্ধারের মামলায় চট্টগ্রামে গ্রেফতার প্রাইম হ্যাচারির ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে ডিবিতে নেয়া হবে।
সোহেল ৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রবিবার সোহেলের মুখোমুখি করা হবে এ ঘটনায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া তিনজনকে। এরা হলেন, মণ্ডল গ্রুপের কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, কসকো শিপিং লাইনস লিমিটেডের ম্যানেজার একে আজাদ এবং একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। গত বুধবার এদেরকে চট্টগ্রামে আনা হয়। তারা প্রত্যেকে ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
ডিসি (ডিবি) কুসুম দেওয়ান জানান, তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা লন্ডন ও ভারতে অবস্থানরত দু’জনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছি। এছাড়া আসামীরা দেশে অবস্থানরত কয়েকজন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। বকুল মিয়া এবং রাজুসহ যাদের নাম পাওয়া যাবে তাদেরকে গ্রেফতারে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুন চট্টগ্রাম বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে সূর্যমুখী তেল ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা তরলের একটি কন্টেইনার আটক করা হয়। বলিভিয়া থেকে আমদানি করা এই কন্টেইনারটিতে ১০৭টি ড্রাম ছিল যার প্রতিটির ওজন ১৮৫ কেজি। এর একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হন শুল্ক গোয়েন্দারা। এ ঘটনায় ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানায় এসআই ওসমান গণি মামলা করেন।
মামলায় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রাইম হ্যাচারির ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে মো. গোলাম মোস্তফা সোহেল এবং ঢাকা থেকে তিনজনসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত এর মধ্যে গোলাম মোস্তফাকে ৫ দিনের এবং অপর তিনজনকে ১০দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই চারজনকে রবিবার মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানায়।
