গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিউর রহমান ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এই আদেশ তামিল করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সহকারী পুলিশ সুপারকে (এ সার্কেল) নির্দেশ দেন জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এসএম তাসকিনুল হক।
রবিবার এই আদেশ জারি করা হয়।
ওই আদালতের কর্মচারী অফিস সহকারী কমল চৌধুরীসহ তিনজন কর্মচারীকে মারপিট ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে রবিবার কমল চৌধুরী নিজে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আদালত এই আদেশ দেয়া হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, আদালতের কর্মচারী কমল চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার সকালে একজন বিচারক ও তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতনের টাকা উত্তোলনের জন্য দুইটি চেক নিয়ে সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখায় যান। তিনি চেক দুইটি ব্যাংকে জমা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করেন। বিকেল তিনটার দিকে টাকা উত্তোলনের জন্য পুনরায় তিনি ব্যাংকে গিয়ে চেক দুইটি ভাঙ্গানোর কথা বলেন। কিন্তু উপস্থিত ব্যাংক কর্মকর্তা সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক চেক দুইটি নিয়ে ১০ মিনিট পরে আসতে বলেন। তখন কমল চৌধুরী চেক দুইটি ব্যবস্থাপককে দিয়ে ব্যাংক ভবনের বাইরে যান।
বিকেল পাঁচটার পর কমল চৌধুরী ব্যাংকের ভেতর হৈচৈ শুনে এগিয়ে যান। তিনি ব্যাংকের ভেতরে ঢুকে সহকারী উপ-পরিদর্শক আইয়ুব হোসেন ক্যাশ কাউন্টারে চেকের সিরিয়াল ওলটপালট করছেন বলে দেখতে পান। এ সময় কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গাইবান্ধা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের রেকর্ড কিপার মোজাম্মেল হক, ক্যাশিয়ার জুয়েল কবীরসহ অন্যান্য গ্রাহকরা ওই সহকারী উপ-পরিদর্শকের এ কাজে প্রতিবাদ জানান। এতে আইয়ুব হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি পুলিশের লোক জানিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ব্যাংক ডাকাতির মামলায় জড়িয়ে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। পরে পুলিশ আইয়ুব হাতকড়া দিয়ে কমল চৌধুরীকে ব্যাংকের কলাপসিবল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। পরিস্থিতি শান্ত করে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কমল চৌধুরীকে তার কক্ষে নিয়ে বসান। ওই কক্ষেই ডিবি পুলিশ কমল চৌধুরীকে মারপিট শুরু করেন এবং টেনে হেচড়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। এ সময় তারা কমলের সাথে থাকা চেকের টোকেন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এরই মধ্যে আইয়ুব হোসেনের নির্দেশ পেয়ে ব্যাংক শাখায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল সাদ্দাম, শাহিনুর, সাইমন, আব্দুল্লাহ, বাবলুসহ আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে কিল ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারতে থাকে। এতে কমল চেীধুরী মারাত্মক আহত হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিউর রহমান ব্যাংক শাখায় গিয়ে কমলকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কমলের শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে তাকে সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওইদিনই কমল চৌধুরীকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
