চট্টগ্রামে গ্যাসের তীব্র সংকট

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৫, ০০:৫৫

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট সহসা নিরসন হচ্ছে না। এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর বন্দরনগরীর গ্যাস সংকট নিরসন নির্ভর করছে। গত দশ বছর আগে সৃষ্ট গ্যাস সংকট এখন প্রকট হয়েছে। সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার মধ্যে ২৬০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। সংকটের মধ্যেও চলছে গ্যাস চুরি। আবাসিক খাতে টানা চার বছর বন্ধ থাকার পর গত বছরে নতুন সংযোগ প্রদান শুরু হয়েছে। গ্যাস সংকটে দু’টি সার কারখানা কাফকো ও সিইউএফএলে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে।

 
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) খন্দকার মতিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট নিরসনে এলএনজি প্রকল্প বাস্তবায়নের উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এটির মাধ্যমে চট্টগ্রামে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এলএনজি প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে।’
 
এলএনজি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এলএনজি প্রকল্পের আওতায় মহেষখালী থেকে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপ লাইন স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসানো হবে। সেখানে টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। পাইপ লাইন প্রকল্পের মালামাল ক্রয়, পাইপ লাইন স্থাপন ও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮১ কোটি টাকা। পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক আবু সাঈদ মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘মালামাল ক্রয়ে চুক্তি হয়েছে এবং পাইপ লাইনের টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ চলমান রয়েছে।’ তবে মহেষখালীতে গভীর সমুদ্রে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রক্রিয়ায় এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
 
চট্টগ্রামে গ্যাস বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেডিজিসিএল)। দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী ও বন্দরকে ঘিরে শিল্পায়নের ব্যাপক সুবিধা থাকায় গ্যাস ব্যবহারের বিশাল ক্ষেত্র রয়েছে। বিদ্যুত্ পরিস্থিতি উন্নতি হলেও গ্যাস সংকটে শিল্পায়নকে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি জানায়, শিল্প খাতে গ্যাস সংযোগের প্রায় দুই শতাধিক আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ আবেদনকারী ডিমান্ট নোটের টাকাও পরিশোধ করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সুপারিশের ভিত্তিতে শিল্প-কারখানার বেশ কিছু সংযোগ দেয়া হয়েছে।   কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আবেদনকারী এখনো গ্যাস সংযোগ পায়নি।
 
জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১ জুন থেকে দেশের বৃহত্তম সার কারখানা কাফকো উত্পাদন বন্ধ রেখেছে। সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ আপাতত বন্ধ রেখেছে। ফলে দৈনিক ২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সার কারখানা বন্ধ থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কাফকোর চীফ অপারেশন অফিসার শেখ শফি আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের কারিগরি কোন সমস্যা নেই। গ্যাস না পাওয়ায় উত্পাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পেট্রোবাংলার সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানোর কারণে আমাদের গ্যাস সরবরাহ দেয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।’
 
অন্যদিকে সিইউএফএল সার কারখানায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। তাদের দৈনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। সিইউএফএল সূত্র জানায়, কারখানায় বর্তমানে রিয়েখটার মেশিন ও কুলিং টাওয়ারের মেরামত কাজ চলছে। গ্যাস সংকটে উত্পাদন বন্ধ থাকায় কারখানার ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশে মেরামত কাজটি সেরে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
 

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, সমুদ্র বক্ষে অবস্থিত সাঙ্গু গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্পাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে গ্যাসের উত্স জাতীয় গ্রিডের উপর নির্ভর হয়ে পড়ে।