উইকেট নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৫, ০১:৫৮

একসময় অস্ট্রেলিয়া দলকে নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হতো সব দলকেই।

 
কী উইকেট বানাবেন তাদের জন্য! ব্যাটিং উইকেট বানালে হেইডেন, গিলক্রিস্ট, পন্টিংরা আছেন। পেস বোলিং উইকেট বানালে ম্যাকগ্রা-গিলেস্পি। আর স্পিন উইকেট বানিয়ে ফেললে শেন ওয়ার্ন!
 
কী উইকেট বানাবেন?
 
এই সমস্যায় এখন বাংলাদেশ পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে। ব্যাটিং উইকেট বানানোর উপায় নেই—ডি ভিলিয়ার্স, মিলার, ডু প্লেসিসরা আছেন। পেস বোলিংয়ে আরও বিপদ। গতকাল টের পাওয়া গেলো উইকেটে টার্ন থাকলেও অপ্রতিরোধ্য দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা। আমাদের অস্ত্রেই ফাঙ্গিসো, ডুমিনিরা ঘায়েল করে ফেললো আমাদের।
 
তবে গতকাল ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথাবার্তায় ইঙ্গিতটা পরিষ্কার যে এমন টার্নিং উইকেট তারা চাননি। বেশ কিছুদিন ধরে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হয়ে পড়া বাংলাদেশ টার্নিং উইকেটে খুব ভালো করতে পারবে না, এমন অনুমান তাদের ছিলো। আর সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশের সফল স্পিনাররা কেউই বলের খুব ভালো টার্নার নন; তারা মূলত একটু নিচু বাউন্স ও ধীরগতির উইকেটে সাফল্য পেয়ে থাকেন। গতকালকের উইকেটে দারুণ টার্ন থাকলেও, সেটা মাশরাফিদের চাহিদামতো ‘স্লো ও লো’ ছিলো না।
 
উইকেট যে বাংলাদেশের জন্য একটা বড় সমস্যা ছিলো, সেটা অস্বীকার করলেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। তিনি পরিষ্কার বললেন, এতো টার্নিং উইকেটের ব্যবহার করার মতো বোলার তাদের নেই, ‘আমাদের বোলারদের বল ততটা তো টার্ন করে না। আমাদের যেটা হয়, বল একটু উঁচু-নিচু হয়। একটু স্লে­া হয়। উইকেটে টার্ন করাতে একটা সমস্যা হয়েছে। আর ওদের বোলাররা ৮ ওভারে ৩২ রান দিয়ে ৩টি উইকেটও নিয়েছে। অবশ্যই এখানে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে ১৫০ তাড়া করতে গেলে আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত। যেটাই হোক না কেন আমরা আরেকটু চেষ্টা করতে পারতাম।’
 
পাশাপাশি অনেকদিন ধরে একটু স্পোর্টিং উইকেটে খেলার পর হঠাত্ টার্নিং উইকেটে মানিয়ে নিতেও কষ্ট হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন মাশরাফি, ‘হতে পারে অনেকদিন ধরে ট্রু উইকেটে খেলার অভ্যাস হয়ে গেছে। সেই জায়গা থেকে একটু স্পিন উইকেট হয়েছে। এটা একটা কারণ হতে পারে। এই ধরনের উইকেটে আমরাতো সব সময় খেলে অভ্যস্ত। আমাদের আসলে এই জিনিসগুলোতে অভ্যস্ত হতে হবে। ওদের জন্য এমন উইকেটে খেলা আরও কঠিন। ওদের ২-১ ব্যাটসম্যান কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেলেছে। আমরা চেষ্টা করলে ইনশাল্ল­াহ আমরাও পারব। উইকেট যেমনই হোক আমাদের মানিয়ে নিয়েই খেলতে হবে।’
 
 স্কোরকার্ড
 
দক্ষিণ আফ্রিকা                                 রান   বল   ৪     ৬
 
এবি ডি ভিলিয়ার্স ক মাশরাফি ব আরাফাত সানি    ২    ৬    ০            ০
 
কুইন্টন ডি কক ক লিটন ব নাসির            ১২    ৮    ০     ১
 
ফাফ ডু প্লেসিস অপরাজিত                    ৭৯  ৬১   ৮     ০
 
জেপি ডুমিনি ক নাসির ব আরাফাত সানি     ১৮   ২২    ১     ০
 
ডেভিড মিলার এলবিডাব্লিউ ব সাকি আল হাসান    ১    ৩     ০            ০
 
রিলী রুশো অপরাজিত                         ৩১   ২১    ২     ২
 
অতিরিক্ত (লেগবাই ২, ওয়াইড ২, নোবল ১)   ৫
 
মোট (চার উইকেট; ২০ ওভার)               ১৪৮
 
উইকেট পতন: ১/২ (ডি ভিলিয়ার্স, ০.৬), ২/৩১ (ডি কক, ৩.৬) ৩/ ৭৭ (জেপি ডুমিনি, ১১.২), ৪/৯০ (ডেভিড মিলার, ১৩.২)।
 
বোলিং: আরাফাত সানি ৩-০-১৯-২, নাসির হোসেন ৪-০-৩৭-১, সাকিব আল হাসান ৪-০-২৪-১, মুস্তাফিজুর রহমান ৪-০-৩০-০, সোহাগ গাজী ২-০-১৬-০, মাশরাফি বিন মুর্তজা ৩-০-২০-০।             
 
বাংলাদেশ                                       রান   বল   ৪     ৬
 
তামিম ইকবাল ক ডি কক ব অ্যাবোট         ৫    ৪    ১     ০
 
সৌম্য সরকার ক ডুমিনি ব রাবাদা              ৭     ৭    ১     ০
 
সাকিব আল হাসান ক পার্নেল ব ওয়াইজ    ২৬  ৩০   ১     ১
 
মুশফিকুর রহিম ক মিলার ব ডুমিনি           ১৭   ১৯   ২     ০
 
সাব্বির রহমান ক ডি কক ব ডুমিনি            ৪     ৭    ০     ০
 
নাসির হোসেন ক রুশো ব ফাঙ্গিসো           ১     ২    ০     ০
 
লিটন কুমার দাস ক ভিলিয়ার্স ব ওয়াইজ     ২২   ২৬   ০     ১
 
মাশরাফি বিন মুর্তজা ক ভিলিয়ার্স ব রাবাদা    ৫   ৪    ১     ০
 
সোহাগ গাজী রান আউট (ভিলিয়ার্স/ওয়াইজ)      ৩    ৬    ০            ০
 
আরাফাত সানি অপরাজিত                      ১     ২    ০     ০
 
মুস্তাফিজুর রহমান ব পার্নেল                    ১    ৬    ০     ০
 
অতিরিক্ত (লেগবাই ২, ওয়াইড ২)             ৪
 
মোট (অল আউট; ১৮.৫ ওভার)              ৯৬
 
উইকেট পতন: ১/৭ (তামিম ইকবাল, ০.৬), ২/১৩ (সৌম্য সরকার, ১.৫), ৩/৫০ (মুশফিকুর রহিম, ৭.৫), ৪/৫৬ (সাব্বির রহমান, ৯.২), ৫/৫৭ (নাসির হোসেন, ১০.১), ৬/৭১ (সাকিব আল হাসান, ১৩.২), ৭/৮৬ (মাশরাফি বিন মুর্তজা, ১৪.৫), ৮/৯৩ (সোহাগ গাজী, ১৭.১), ৯/৯৪ (লিটন কুমার দাস, ১৭.৩), ১০/৯৬ (মুস্তাফিজুর রহমান, ১৮.৫)।
 
বোলিং: কাইল অ্যাবোট ২-০-১০-১, কাগিসো রাবাদা ৩-০-২৮-২, ওয়েন পার্নেল ২.৫-০-১২-১, ডেভিড ওয়াইজ ৩-০-১২-২, অ্যারন ফাঙ্গিসো ৪-০-২১-১, জেপি ডুমিনি ৪-০-১১-২।
 

ফল :দক্ষিণ আফ্রিকা ৫২ রানে জয়ী।