ছোট মাসে বেশি রেমিট্যান্স

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ২০:৫৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বছরের সবচেয়ে ছোট মাস ফেব্রুয়ারি। গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনে দেশে ১৩১ কোটি ৭৭ লাখ ডলার এসেছে। যা গত বছরের একই মাসের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স ছিল ১১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এক হাজার ৪১ কোটি তিন লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময় পাঠিয়েছিলেন ৯৪৬ কোটি ১২ লাখ। এই হিসাবে আট মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত জানুয়ারিতে। ওই মাসে প্রবাসীরা ১৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সে হিসাবে গত মাস ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স কিছুটা কমেছে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ ১৪৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১৪ সালের জুলাইয়ে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড দেড় হাজার কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসার পরের বছরেই এটি কমে যায়। এর পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আরও কমে এক হাজার ১৭৬ কোটি ডলারে নেমে আসে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়ে সরকার ও কেন্দ ীয় ব্যাংক। খরা কাটিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৮ কোটি ০৮ লাখ ডলার, বিশেষায়িত দুই কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দেড় কোটি ডলার। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১০১ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ০৭ লাখ ডলার।

জানা গেছে, প্রবাসী আয় বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও সরকার বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে জনগণও বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উত্সাহিত হচ্ছেন। এরই প্রভাব পড়েছে সার্বিক রেমিট্যান্সে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পণ্য আমদানি বাড়ার কারণে বাজারে এখন ডলারের চাহিদা বেশি। সে কারণে ব্যাংকগুলো তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই রেমিট্যান্স আনতে বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে, বর্তমানে বেশি টাকা পাওয়ার কারণে প্রবাসীরাও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। এছাড়া অবৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশকিছু উদ্যোগও কাজ করেছে। এদিকে বাড়তি চাহিদার কারণে হু হু করে দাম বাড়ছে ডলারের। গত এক বছরে ডলারের দাম অনেক বেড়েছে। আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম এখন ৮৪ টাকা ছুঁই ছুঁই। অবশ্য ডলারের দাম বৃদ্ধির এ প্রবণতা রপ্তানিকারক ও রেমিটারদের জন্য খুশির খবর হলেও আমদানিতে বেশি খরচ হওয়ায় চাপ বাড়ছে অর্থনীতিতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রেমিট্যান্স পাঠানোয় শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সৌদি আরব ছাড়া অন্য দেশগুলো হচ্ছে—আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জিডিপিতে ১২ শতাংশ অবদান রাখে প্রবাসীদের পাঠানো এই বৈদেশিক মুদ্রা।