ব্রাজিলের গম নিয়ে বিপাকে খুলনার মিল মালিকরা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৫, ০১:২৪

খাদ্য বিভাগ থেকে গম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খুলনার মিল মালিকরা। নিম্নমানের গম থেকে ভাঙানো আটা বিক্রি করতে পারছেন না তারা। প্রতি ৫০ টন গমে প্রায় ২ লাখ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মিল মালিকগণ। অন্যদিকে খুলনার ডিলাররাও এ আটা নিচ্ছেন না। গম না নিলে লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কা করছেন তারা।

 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম নিতে খাদ্য বিভাগ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয় মিলারদের। প্রথম দফায় খুলনার ২৭ জন ডিলারের মধ্যে গম উত্তোলন করেন ২৫ জন মিল মালিক। এদের প্রত্যেকেই মাসিক বরাদ্দের ৫০ টন করে গম নিয়ে যান আটা করার জন্য। প্রথম দফায় গম ভাঙিয়ে আটা করার পর তারা বুঝতে পারে গম নিম্নমানের। এ গম থেকে ভাঙানো আটা তেতো ও লালচে। বাজারের অন্য আটা থেকে দেখতেও খারাপ। ফলে এ গম নিতে মিলাররা অস্বীকার করেন; কিন্তু মিলারদের অভিযোগে কঠোরতা দেখায় খাদ্য বিভাগ। গত ৪ মে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে মিল মালিকদের বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘খুলনা মহানগরীতে ওএমএস খাতে মিলের অনুকূলে মে মাসের জন্য গম বরাদ্দ করা হয়েছে। উক্ত গম উত্তোলনপূর্বক ওএমএস ডিলারদের নিকট বিক্রি করার জন্য অনুরোধ করা হলো। ব্যর্থতায় ওএমএস বন্ধ থাকলে দায়-দায়িত্ব মিল মালিকদেরকেই বহন করতে হবে।’ খাদ্য বিভাগের এ ধরনের পদক্ষেপে বিপাকে পড়েন মিল মালিকগণ।
 
তাদের দাবি, খাদ্য বিভাগ যে গম সরবরাহ করেছে তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এই গমে যে আটা হচ্ছে এতে বড় অংকের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নিম্নমানের গম খুলনার মিল মালিকদের নিতে বাধ্য করেছিলো জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস। ২৫ জন মিল মালিক ওই গমের সঙ্গে ভালো গম মিশিয়ে আটা বানিয়ে বাজারে দিয়েছিলেন; কিন্তু সেই আটা তিতা আর ধূসর রংয়ের হওয়ায় বিক্রি হচ্ছে না। তাই মিলগুলোতে এখনো পড়ে আছে দুর্গন্ধযুক্ত গম।
 
নগরীর দুলারা ফ্লাওয়ার মিলের মালিক আফতাব আলম বলেন, না জেনেই প্রথম দফায় ৫০ টন গম উত্তোলন করি। প্রথমে গম দেখে পছন্দ হয়নি। এরপরও গম ভাঙিয়ে দেখা যায় তুলনামূলকভাবে আটা কম হচ্ছে।  কেজি প্রতি গমে আটা হয় সাড়ে ৭শ গ্রাম; কিন্তু ব্রাজিলের গম থেকে আটা হয় মাত্র ৫ থেকে ৬শ গ্রাম। কেজিতে প্রায় দুই আড়াইশ গ্রাম করে লোকসান হচ্ছে। ৫০ টন গমে আটা হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টন। টন প্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টাকার ওপরে। ব্যাংকের ঋণ এবং অন্যদিকে লোকসান নিয়ে ব্যবসা করা যায় না। তিনি আরো বলেন, গম না নিলে লাইসেন্স হারাতে হবে। অন্যদিকে গম নিলে লোকসান গুণতে হবে। এ জন্য বাধ্য হয়ে আটা ও গমের আনুপাতিক হার বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক মিলের কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দফায় গম তুলেছিলাম। নিম্নমানের হওয়ায় পরে আবার বরাদ্দ পেলেও তুলিনি। তিনি বলেন, গমগুলো ঠিকমতো গুঁড়ো হয় না, খুদ হয়ে যায়। গম থেকে যে ভুসি হয় সে ভুসিও পশু-পাখির জন্য অখাদ্য। নিম্নমানের গম থেকে করা আটার সাথে ভাল গমের আটা মিশিয়ে তবেই প্রথম দফায় ডিলারদের দেয়া হয়েছে।
 
আটা না নেয়ার বিষয়ে খুলনা মহানগর ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, গত মে মাসে মিল মালিকদের কাছ থেকে আমরা ১শ টন আটা পাই। সে আটা ছিল তেতো ও দুর্গন্ধযুক্ত। ওই আটা বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। বাজারে সাধারণ আটার দাম ১৮-১৯ টাকা; অন্যদিকে খাদ্য বিভাগের আটার দর ২২ টাকা। জনগণ কিনছে না।
 
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সেলিমুল আযম বলেন, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম দেখতে কিছুটা খারাপ; কিন্তু পুষ্টিগুণ বহাল রয়েছে। গম খারাপ বিষয়ে কোন মিল মালিক লিখিত অভিযোগ করেননি। বরং মিল মালিকদের থেকে গম ও আটার শতকরা হার বাড়ানোর জন্য দাবি করা হয়েছে। খারাপ হলে তো মিল মালিকরা এ গম নিতেন না।
 
খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী নূরুল ইসলাম বলেন, গত মার্চে ব্রাজিল থেকে মোট ৫৫ হাজার মেট্রিকটন গম আমদানি করা হয়। ইতিমধ্যে ডিলারদের কাছে সব গম সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ব্রাজিল থেকে আমদানি করা গম পচা- এ সম্পর্কে ডিলারদের কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি। তবে মার্কেটে এখন এ গমের দাম কম। ফলে এ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে একটু ক্ষোভ থাকতে পারে।
 
ভিজিএফের চাল ফেরত
 
দিলেন পৌর মেয়র
 
বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, গতকাল বাগেরহাট পৌরসভায় ভিজিএফ কার্ডধারী দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য খাদ্য গুদাম থেকে নিম্ন মানের খাবার অযোগ্য চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমান ও বস্তার ওজন কম থাকার অভিযোগে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান সোমবার বিকালে খাদ্য গুদাম থেকে পাঠানো ১২ টন চাল ফেরত দিয়েছেন।
 
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৌরসভার চার হাজার ৬২০ জন ভিজিএফ কার্ডধারীর মাঝে বিতরণের জন্য পাওয়া বরাদ্দের অংশ হিসেবে এই চাল পৌরসভায় পাঠানো হয়েছিলো।
 

বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান জানান, জেলা খাদ্য গুদাম থেকে পাঠানো চাল অতি নিম্নমানের, খাবার অনুপযোগী। তা ছাড়া বস্তাপ্রতি গড়ে এক থেকে দুই কেজি করে ওজনে কম রয়েছে। এ চাল পৌরবাসীর মাঝে বিতরণ করা সম্ভব না তাই তা ফেরত দিয়েছি।