ঈদে নতুন পোশাকের সঙ্গে চাই নতুন গহনা। উচ্চবিত্তের নজর এবার হীরা আর সোনার গহনায়। অন্যদিকে মধ্যবিত্তরা রুপার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া আর ইমিটেশনের গহনা কিনছেন বেশি। তবে কেউ কেউ হীরার কানের টপস, নাকফুল আর লকেটও কিনছেন। রাজধানীর চাঁদনী চক, নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক মার্কেট ঘুরে দেখা যায় হীরার চেয়ে সোনার গহনা বেশি বিক্রি হচ্ছে। উচ্চবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্তদের মধ্যেও কেউ কেউ হীরার গহনা কিনছেন। নারীর পছন্দের গহনার খোঁজখবর নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী|
সোনার গহনা
শরীরের একেকটি অঙ্গের জন্য বিভিন্ন গহনা রয়েছে। যেমন—গলায় জড়াতে পারেন অর্ধহার, চন্দ্রহার, পাটিহার, চারনরী, পাঁচনরী, সাতনরী, গোটহার, প্রালম্বক, একাবলি, কণ্ঠী, মধ্যমণি, ফুলোহার, মতিহার, রশ্মিমালা, চেন, মালা, নেকলেস, লকেট, শেলি, হাঁসুলি ইত্যাদি। কানে পরতে পারেন কর্ণপালি, কণিকা, কর্ণদর্পণ, কর্ণপুর, ইয়াররিং, কর্ণমালা, কানবালা, ঝুমকা, টব, চৌদামি, বারবৌরি, দুল, মাকড়ি ইত্যাদি। হাতের শোভা বাড়াবে চুড়ি, কঙ্কণ, বালা, আর্মলেট, বাউটি, ব্রেসলেট, বাহুবন্ধ, বাজুবন্ধ, পইছা, মানতাসা, প্রতিশর ইত্যাদি। মাথায় পরুন মুকুট, তাজ, সিঁথিমোর, কিরীট, শেখর, শিরোমণি, টোপর, কলগা, মোর, মৌলি ইত্যাদি। নাকে নথ, নোলক, নাকসোনা, নাকছাবি, বেশর, টানা ইত্যাদি পরতে পারেন। কোমরে জড়াতে পারেন কিঞ্চিনি, কোমরবন্ধ, কটিসূত্র, কটিবন্ধ, চন্দ্রহার, বিছা, মেখলা ইত্যাদি। আর পায়ে পরতে পারেন নূপুর, ঘুঙুর, পায়জোর, মল, গুঁড়বাঁধ, আনোট, তোড়া গুজারি, পাষক ইত্যাদি। ঈদ উপলক্ষে বৈচিত্র্যময় আধুনিক ডিজাইনের নতুন নতুন আকর্ষণীয় অলংকারে সাজিয়ে তুলেছে বায়তুল মোকাররম ও নিউ মার্কেটের সানন্দা জুয়েলার্স। এই পবিত্র রমজানে আকর্ষণীয় ডিজাইনের জুয়েলারির উপর ক্রেতারা ছাড়ও পাচ্ছেন।
সোনার গহনার যত্ন
সোনার গহনা খুব সহজে কালচে না হলেও নোংরা হয় খুব সহজেই। তাই আপনার পছন্দের সোনার মূল্যবান আংটি, ব্রেসলেট, নেকলেস এবং অন্য জুয়েলারিগুলো পরিষ্কার করতে পারেন এভাবে—একটি পাত্রে হালকা গরম পানি আর কিছু পরিমাণ তরল ডিটারজেন্ট নিয়ে ভালোভাবে মেশান। এইবার গহনাগুলো ১৫ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন এই মিশ্রণে। একটি নরম টুথব্রাশ দিয়ে আস্তে আস্তে ঘষে ময়লা পরিষ্কার করুন। এরপর পরিষ্কার হালকা গরম পানিতে ধুয়ে উঠিয়ে নিন। সবশেষে একটি নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে শুকিয়ে ফেলুন।
অ্যান্টিকের গহনা
দিন বদলের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে নারীদের গহনার ধরন। বর্তমানে স্বর্ণ, রুপা, হীরার গহনার পাশাপাশি নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে অ্যান্টিকের বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা। অবশ্য সজ্জানুষঙ্গ হিসেবে গহনার ব্যবহার অনেক প্রাচীন। পৌরাণিক দেব-দেবীদের অঙ্গেও শোভা পেত নানা রকম গহনা। ধারণা করা হয়, পোশাক পরার আগে থেকেই গহনার ব্যবহার শিখে নেয় মানুষ। বলা বাহুল্য, সেসব গহনা ছিল প্রকৃতি থেকে খুঁজে নেওয়া পোশাকেরই বিকল্প। ফুল, পাখির পালক, জীবজন্তুর হাড়, পাথরকুচি, ঝিনুক, শঙ্খ, ঘাসপাতা, বুনো ফল, গাছের বাকল ইত্যাদি ছিল সেসবের উপাদান। মূলত গহনা নিয়ে এ পরিবর্তনের হাওয়া বইছে গত বিশ বছর ধরে। তবে বলা যায়, গত পাঁচ বছরে তা পূর্ণমাত্রা পেয়েছে। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ ভেঙে নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে আমাদের গহনাশিল্প। একসময়ের ভারী গহনার চলটা বর্তমানের হাল ফ্যাশন হয়ে এসেছে। আর তরুণীদের রুচি, ব্যক্তিত্ব আর পোশাকের সঙ্গে এই ভারী গহনা অনায়াসেই মানিয়ে যায়। এক হাতে কয়েকটা বালা পরলে অন্য হাতটা ফাঁকা রাখলেই ভালো দেখাবে। আবার গলায় ভারী কিছু পরলে কানে হালকা দুল কিংবা দুল না পরলেও চলে। রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলে জুয়েলারি দোকানে অ্যান্টিকের বাহারি ডিজাইনের গহনা পাওয়া যায়। জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান জেমস গ্যালালির জিকো বলেন, ‘আমরা নান্দনিক ডিজাইনের অ্যান্টিকের গহনা বিক্রি করি। এরমধ্যে রয়েছে ভিক্টোরিয়ান জুয়েলারি, ট্রেন্ডি অ্যান্ড ট্রেডিশনাল মুক্তার তৈরি জুয়েলারি, সিলভার জুয়েলারি, পেনডেন সেট, ইয়ার রিং, ব্যাঙ্গেলস, ব্রেসলেট, হাঁসুলি, ফিঙ্গার রিং ইত্যাদি। আর এগুলো দাম পড়বে ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।’
অ্যান্টিকের গহনার যত্ন
শুধু গহনা পরলেই হবে না, পছন্দের গহনাটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের জন্য এবং এর সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিতে হবে সঠিক যত্ন। তবে এসব গহনার যত্ন সম্পর্কে অনেকেরই তেমন একটা ধারণা নেই। একেক ধরনের গহনার যত্ন একেক রকম। যদি সঠিকভাবে গহনার যত্ন নেওয়া যায়, তবে আপনার মূল্যবান গহনা থাকবে সবসময় নতুনের মতো ঝকঝকে। অ্যান্টিকের গহনা ব্যবহার না করলে বর্ণহীন দেখায়, তবে একফালি লেবু নিয়ে গহনা ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে গহনা ঝকঝক করবে।
