চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে তেলের ড্রামে কোকেন পাচারের মামলায় তদন্ত সংস্থা ডিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে ফের নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। এ সংক্রান্ত দুটি আবেদনের শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলম গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। বিচারক কোকেন উদ্ধারের ঘটনা তদন্তে নগর ডিবি পুলিশকে সহযোগিতা না দিলে আদালত অবমাননাসহ ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সতর্ক করে দেন। মামলাটিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বিচারক বলেন, আদালতের আদেশ অমান্য করে অনাকাঙ্ক্ষিত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে তদন্ত কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে জব্দকৃত কন্টেইনার থেকে কোকেনের আলামত সংগ্রহ করে পুনঃপরীক্ষার জন্য ডিবিকে সহযোগিতা করা হচ্ছে না মর্মে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) কামরুজ্জামান। একই দিন ডিবিকে আলামত পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেয়ার আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আদালতে পৃথক একটি আবেদন করেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহমেদ। দুটি আবেদনের শুনানি শেষে আদালত কোকেনের আলামত পুনঃপরীক্ষার জন্য ডিবিকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কোকেনের আলামত সংগ্রহ এবং মালামাল জব্দ করার সময় তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে উপ-কমিশনার পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উপ-কমিশনার পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা নির্ধারণের জন্য পুলিশ কমিশনারকে দায়িত্ব দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আলামত জব্দের সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, কাস্টমস এবং শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাকে হাজির থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আলামত জব্দ ও মামলার উপকরণ সংগ্রহের পর সিলগালা করার সময় প্রত্যেককে স্বাক্ষর করতে বলেছেন। গুরুত্বপূর্ণ এ মামলার তদন্ত নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন আদালত।
এদিকে, কোকেন জটিলতায় চট্টগ্রামে আটকা পড়া ২৪ জন চীনা নাবিক স্বদেশে ফেরত যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। জানা গেছে, এই নাবিকরা যে জাহাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তার সাথে চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন আটকের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে মহানগর ডিবির কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে চীনা নাবিকদের দেশে চলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা। গতকাল মঙ্গলবার জাহাজটির মালিক প্রতিনিধি কসকো শিপিং লাইনকে এ অনুমতি দেয়া হয়।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া জানান, কোকেন আমদানির মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। এ ঘটনায় কসকো শিপিং লাইনের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চীনের ২৪ নাবিকও কসকো শিপিং লাইনের একটি জাহাজে বাংলাদেশে আসেন। তাদের সাথে কোকেনের ঘটনার কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কীনা তা জানার প্রয়োজন ছিল। এজন্য চীনা নাবিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে ডিবির পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই নাবিকদের ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।