‘ধার’ নিয়ে আড়াই লাখ যাত্রীর নিরাপত্তা দেবে রেল পুলিশ

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৫, ১০:০৮
 
‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’- এ অবস্থা চলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশে। এবছরও ‘ধার’ করে লোক নিয়ে ঈদে ঘরে ফেরা আড়াই লাখ যাত্রীর নিরাপত্তা দেবে রেলপুলিশ। এদের সহযোগিতার আনা হয়েছে ৩২০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও ১০৫ জন ব্যাটালিয়ন পুলিশ সদস্যকে। এরা দায়িত্ব পালন করবে ৫৮টি রেলস্টেশনে। স্টেশনের পাশাপাশি দায়িত্বপালন করবে নৈশকালীন একপ্রেস ট্রেনগুলোতে। সারাদেশে রেলওয়ের স্টেশন আছে ৪৪৩টি।

 

রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ব্রিটিশ শাসনকালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে  প্রথম রেললাইন চালু হয়েছিল ১৮৬২ সালে। প্রতিষ্ঠার পর ধীরে ধীরে এর বিস্তৃতি ঘটানো হয়। বিস্তৃতির সাথে সাথে চুরি-ডাকাতি সহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেয়। এজন্য প্রথমে আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা হয় এবং পরে রেল পুলিশ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর পুরো রেলওয়ে পুলিশকে একটি রেঞ্জের আওতাভুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর রেল পুলিশে মৌলিক কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে রেল সদর দফতর চট্টগ্রামে সরিয়ে নেয়া হয়। বর্তমানে রেল পুলিশের দুটি জোন রয়েছে, চট্টগ্রাম এবং সৈয়দপুর জোন। এ দুটি জোনে দু’জন পুলিশ সুপার পুলিশ প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুর উভয় জোনে ১২টি রেলওয়ে থানা, ১৭টি ফাঁড়ি ও চারটি  সার্কেল রয়েছে। একজন ডিআইজির নেতৃত্বে রেল পুলিশ পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের মোট জনবল ১ হাজার ৬০৪ জন। আর ১১৯ কিলোমিটার পথের জন্য একটি থানা।

 

রেলপুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক বছরে রেলওয়ে তার হারানো গৌরব অনেকটা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। বেড়েছে জৌলুস। রেলওয়েতে যুক্ত হয়েছে আধুনিক ট্রেন। কিন্তু  রেলওয়ে পুলিশ রয়ে গেছে সেই একই তিমিরে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত নিরাপত্তারক্ষী দরকার, তা রেল পুলিশের হাতে নেই। নেই আধুনিক সরঞ্জাম। তাদের দাবি, কমপক্ষে ১০ হাজার সদস্য হলে রেলওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এম রুহুল আমিন বলেন, রেলওয়েতে নিরাপত্তা কর্মীর সঙ্কট রয়েছে। পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় কোনো লোকাল ট্রেনেই পুলিশ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আন্তঃনগর ট্রেনেও প্রয়োজনের তুলনায় কম পুলিশ দিতে বাধ্য হচ্ছে তারা। এতে পুলিশ সদস্যদের টানা ২৪ ঘণ্টাও ডিউটি করতে হয়।

 

তিনি বলেন, জনবল সংকটের কারণে এ বছর ঈদে আড়াই লাখ রেল যাত্রীর নিরাপত্তার জন্য ৩২০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার ও ১০৫ জন ব্যাটালিয়ান পুলিশ সদস্যকে প্রেষণে আনা হয়েছে। তবে রেল পুলিশ প্রধান আশাবাদি, নানাবিধ সমস্যা থাকলেও তারা যাত্রীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারবেন বলে।

 

অপরদিকে রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) রয়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। আরএনবি সদস্যরা ট্রেনে কোনো ডিউটি করে না। তারা রেলের গুদাম ও রেলের নিজস্ব স্থাপনার নিরাপত্তায় কাজ করে। আর রেলওয়ে পুলিশ ট্রেনের চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে কাজ করে। এছাড়া লাশ উদ্ধার ও রেলযাত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে। ফলে অপরাধ দমন, মামলা তদন্তের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক রেলযাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। প্রতি থানায় প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সংখ্যক এসআই রয়েছে। ফলে থানাগুলোতে তদন্তের অভাবে ঝুলে আছে হাজার হাজার মামলা।