প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামো সংশোধন করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মর্যাদা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অশান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন উপাচার্যরা। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে। বৈঠক থেকে দাবি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামারও হুমকি দিয়েছেন উপাচার্যরা।
শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যদের বলেছেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন। বিষয়টি আমি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। এছাড়া নতুন বেতন কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
সভার শুরুতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলাউদ্দিন মন্ত্রীর কাছে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে স্মারকলিপি দেন। পরে উপাচার্যদের মতামত শোনেন শিক্ষামন্ত্রী। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হবে। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় তা বিবেচনা করে আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, বেতন বৈষম্য এনে শিক্ষকদের অবদমিত করা হচ্ছে, শিক্ষকদের তুচ্ছ করতে এটা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়ে ষড়যন্ত্র কি না সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফায়েকউজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের বেতন নিয়ে চতুরতা করা হয়েছে। এটা শিক্ষকদের নিচে নামানোর একটা প্রয়াস। এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয় উত্তাল হবে। এটা দমানো কঠিন হবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, নিয়োগের সময়ও উপাচার্যদের কোনো সুবিধার কথা সুনির্দিষ্ট করা থাকে না। সব কিছু চেয়ে নিতে হয়, আমাদের অসম্মান করা হচ্ছে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম অহিদুজ্জামান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহীত উল আলম উপাচার্যদের পদমর্যাদা বাড়ানোর দাবি জানান।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের আসন জটিলতায় পড়ার বিষয়টিও মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তারা। উপাচার্যরা সভায় যেসব দাবি তোলেন তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের সুবিধা কমিয়ে আমলাদের বেতন বেড়ে যাবে এটা হতে পারবে না। এটা আমরা মেনেও নেব না। পৃথিবীর কোথাও সুবিধা কমানোর ইতিহাস নেই।
সবার বক্তব্য শুনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়টি আমার একার ব্যাপার নয়, এটা পুরো শিক্ষা পরিবারের দাবি। নতুন বেতন কঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই রাস্তায় নেমে শিক্ষকদের কষ্ট করার দরকার নেই।
তিনি বলেন, আমি চিঠি দিয়ে আপনাদের দাবিগুলো রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদেরও ডিও লেটার দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এগুলো বিবেচনা করা হবে।
জানা যায়, সপ্তম বেতন স্কেলে সচিব, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও মেজর জেনারেল পদের ব্যক্তিদের এক নম্বর গ্রেডে রাখা হলেও প্রস্তাবিত বেতন স্কেলে সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও অধ্যাপকদের বেতন আগের তুলনায় তিন থেকে চার ধাপ নেমে গেছে।
এ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে কমিশনের প্রস্তাব সংশোধন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ মে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে কাঠামো সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হবে বলা হলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।