কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বুদ্ধিমান যন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে দীর্ঘদিন হলো। এ নিয়ে উত্সাহ-উত্তেজনার কমতি নেই বিজ্ঞানী, গবেষক থেকে শুরু করে সাধারণ অনেক মানুষেরও। ভবিষ্যতের পৃথিবীর সব কাজের দায়িত্ব বুদ্ধিমান রোবটের ওপর ন্যস্ত করে দিতেও অনেকেই মনে মনে আগ্রহী। এর বিপরীতে স্টিফেন হকিং কিংবা ভিনসেন্ট কার্ফের মতো বিজ্ঞানী-উদ্ভাবকরা আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন ধরনের বিকাশকে মানবজাতির জন্য হুমকির কারণ বলেও মনে করে থাকেন।
বিপরীতধর্মী এমন মতামতের মধ্য দিয়েও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা থেমে থাকছে না। বরং নতুন নতুন আরও গবেষণা শুরু হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এসব গবেষণা যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকটা নিশ্চিত করতেই এবারে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মাল্টি-বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক ইলন মাস্ক। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্য ফিউচার অব লাইফ ইলন মাস্কের এই অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে ৩৭টি গবেষণা প্রকল্প চালু করবে বলে জানিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে পরিচালিত এসব গবেষণার মধ্যে একটি হলো এক লক্ষ ৩৬ হাজার ডলারের গবেষণা কী করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অস্ত্রকে অর্থপূর্ণভাবে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এ ছাড়া দেড় মিলিয়ন ডলার খরচ করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারও গড়ে তোলা হবে এই অনুদানের অর্থে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই গবেষণাগার পরিচালিত হবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক।
এ প্রসঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিক বোস্ট্রম বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটলে তা নানাভাবেই মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন মনে করার অনেক কারণই রয়েছে। সেই জায়গা থেকে এই সেন্টার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নানা ধরনের কৌশলগত দিক ছাড়াও এই প্রযুক্তির সব ধরনের ঝুঁকিকে শুরুতেই চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে নজর দেবে।’ নীতি-নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সংযোজন করা যায়, সেটা নিয়েও গবেষণা শুরু করতে যাচ্ছে দ্য ফিউচার অব লাইফ ইনস্টিটিউট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণায় ১০ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রসঙ্গে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠাতা এবং টেসলা মটোরস ও পেপ্যালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণাকারী অনেক শীর্ষ গবেষকই এর নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের সাথে একমত পোষণ করেই আমি এই গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
