দেশে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছে। মানুষের হাতে হাতে এখন কাগজের ব্যাগ। কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে শপিং মল সর্বত্রই এমনটা চোখে পড়ছে। ঈদকে সামনে রেখে এখন চলছে কেনাকাটার দুম। ক্রেতাদের হাতে হাতে কাগজের ব্যাগের ছড়াছড়ি। পলিথিনের জায়গা দখল করে ফেলেছে কাগজের ব্যাগ। এছাড়া চটের ব্যাগের চাহিদাও বাড়ছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, সাধারণ মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। এটি আসলে পলিথিনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সরকারি নানা উদ্যোগের ফল। এছাড়া বেসরকারি অনেক সংগঠনও সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা সকলের মধ্যে পরিবেশ বান্ধব মনোভাব তৈরি হয়েছে।
সাজিদ আরাফাত। সরকারি চাকুরিজীবী। সন্ধায় এসেছেন কারওয়ান বাজারে। কাঁচা বাজার থেকে বের হয়েছেন। হাতে একাধিক কাগজের ব্যাগ। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের চেয়ে পলিথিনের পরিবর্তে কাগজের এবং চটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ছে। একটু সচেতন হলে পলিথিনের ব্যাগের ব্যবহার শূণ্যে নেমে আসবে।
ক্রেতাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও এখন বেশ সচেতন। কথা হয় একই বাজারের ছোট ব্যবসায়ী আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, পলিথিনে পরিবেশ দূষিত করে। এটা আমি জানি। আর তাই আমার দোকানে পলিথিনের কোন ব্যাগ রাখি না। আমি নিজে কাস্টমারদের কাগজের এবং চটের ব্যাগ ব্যবহারে উত্সাহিত করি।
পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ পাতার ট্রাস্টি সদস্য বায়েজিদ আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, আগের চেয়ে মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। পলিথিনের ব্যবহার বাদ দিয়ে কাগজের এবং চটের ব্যাগ ব্যবহার করছে। সরকারের উচিত কাগজের ব্যাগ এবং চটের ব্যাগ তৈরির কারখানার ছোট উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেয়া। ক্রেতা-বিক্রেতা সকলের সচেতনতা এবং সরকারের আন্তরিকতাই পারে পলিথিনের ব্যবহার জিরোতে নামিয়ে আনতে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রাজিব মীর বলেন, পরিবেশ বাঁচাতে অবশ্যই পলিথিন ব্যাগের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে এবং পলিথিনের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পাট, কাগজ বা কাপড়ের ব্যাগ উদ্ভাবনের ও বহুল ব্যবহারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ ও বিভাগগুলোকে কার্যকরভাবে উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
