টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা এবং পৌরসভার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে এ আশঙ্কায় থেকে তারা আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিন চান।
বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চে রবিবার এই জামিন আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে তাদের পক্ষে ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেন, এমপি ও মেয়র কেউই এ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নয়। কিন্তু পুলিশ তাদের ওই ঘটনায় সন্দেহ করছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারে—এ আশঙ্কা থেকে উচ্চ আদালতে জামিন চাওয়া হয়েছে।
অপর দিকে, জামিনের বিরোধিতা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরউল্লাহ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আসামিদের জামিন দেয়া যাবে না। এটি একটি হত্যা মামলা। আবেদন খারিজ করে দেয়া হোক। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সোমবার আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে। পাশাপাশি জামিন আবেদনকারীদের আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি গুলি করে হত্যার পর তার বাড়ির সামনে লাশ ফেলে রাখা হয়। এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামিদের জবানবন্দিতে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি এবং তার দুই ভাইয়ের নাম উঠে আসে। এমপির ওই দুই ভাই হচ্ছেন—জাহিদুর রহমান খান (কাঁকন) ও সানিয়াত খান (বাপ্পা)।
