গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
স্কুলের কার্যকরী কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে রশি টানাটানি চলায় উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বড়শীলা উচ্চবিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কয়েক মাস আগে স্কুল গেটে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনার জন্য তিনি স্কুলের সভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদারকে দায়ী করেন। এ ঘটনায় থানায় দায়ের হওয়া মামলায় হালিমুজ্জামান তালুকদারের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা হারুন অর রশীদ তালুকদার গ্রেফতার হন। এরপর সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দুই মেরুতে অবস্থান করায় সাত মাস ধরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং হচ্ছে না। ফলে স্কুলের অনেক জরুরি বিষয় আটকে আছে।
প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার তাকে পাশ কাটিয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফখরুদ্দীন শাহীনকে অবৈধভাবে দায়িত্ব দিয়ে স্কুল চালানোর চেষ্টা করছেন। স্কুলের কোনো কাজেই তাকে সম্পৃক্ত হতে দিচ্ছেন না। তাকে সব সময় ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। এমতাবস্থায় সভাপতি যৌথ চেকে সই না দেওয়ায় ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন সম্ভব না হওয়ায় চলতি এসএসসি পরীক্ষার দুই শতাধিক পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ফি বাবদ প্রায় সত্তর হাজার টাকা পরিশোধ করা যায়নি। কেন্দ্র ফি পরিশোধ না করায় গতকাল সোমবার সকাল ৮টায় ওই স্কুলের পরীক্ষার্থীরা সূতিভিএম সরকারি মডেল হাইস্কুল কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে এসে হোঁচট খান। ফরমফিলাপের সময় আদায় করা ওই টাকা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ না করায় এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা পৌর শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষার্থীরা শান্ত হয়। পরে টাকা পরিশোধের শর্তে দুই ঘণ্টা পর তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
স্কুলের সভাপতি হালিমুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রধান শিক্ষক সব সময় ম্যানেজিং কমিটিকে বাইপাস করে স্কুল চালানোর চেষ্টা করছেন। কোনো চেক সই দেওয়া বাদ নেই। প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্র ফি পরিশোধ না করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিতভাবে সড়ক অবরোধে নামিয়েছেন।
