ভারতে আটক ২২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেই

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৫, ১৮:৫৯
 
 
জেলার সাপাহার সীমান্তে দিয়ে অবৈধ্ভাবে ভারতে যাওয়া ২২ জন বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী ও শ্রমিককে রবিবার আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। আটকের একদিন পরও তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবি’র পক্ষ থেকে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত কোন উদ্যেগ নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ ও বিজিবি’র কর্মকর্তারা একে অপরের উপর এর দায় চাপিয়ে দিচ্ছেন।
 
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার রোদ গ্রামের মো. বয়জুল (২৫), মনিরুল ইসলাম (৩৫), আওয়াল (১৮), ইস্রাফিল আলম (২১), হেলাল উদ্দিন (১৭), মো. মতিলাল (১৪), ফকির লাল (৩৫), দাউদ আলী (২১), শাহ্ আলম (১৬), অনিল চন্দ্র (২০),  হরিমন চন্দ্র (১৪), ছবিলাল চন্দ্র (১৪), কৃষ্ণসদা গ্রামের মো. মাসুদ (২২), সনোয়ার হোসেনের ছেলে দুলাল হোসেন (১৭), লালচানের ছেলে মো. শাকির (১৬),  মো. হাবিল (১৮), মো. ফারুক (২১), হাঁপানিয়া শিয়ালমারী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। বাঁকি চার জনের নাম পাওয়া যায়নি। 
 
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে অবৈধ্ভাবে প্রায় ২০/২৫ জন গরু ব্যবসায়ী ভারতে গরু আনতে যান। তাদের সাথে ভারতের চেন্নাইয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ১৮/২০ জন শ্রমিকও যান। এদের মধ্যে গরু কিনে ১০/১২ জন ভারত থেকে পালিয়ে আসতে পারলেও অন্যরা ফিরতে পারেননি ভোর রাতে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ’র কঠোর নিরাপত্তা থাকায়। 
 
রবিবার সকাল নয়টার দিকে ভারতের ১৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরে মালদাহ জেলার বামনগোলা থানার মাইচাকন্দর এলাকায় ভারতীয় পুলিশ একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ২২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে। আটকের পর পুলিশ তাদের হেফাজতে পাঠিয়েছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। 
 
আটককৃতদের স্বজন ও স্থানীয় গোয়াল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর জলিল জানান, আটকের পর একদিন পার হলে সোমবার বিকেল পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 
 
১৪ বিজিবি পত্নীতলার হাঁপানিয়া ক্যাম্পের কমান্ডার মোজাম্মেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশ দর্জি শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রী। এসব শ্রমিক ভারতের চেন্নাইয়ে যাচ্ছিলেন।  
 
১৪ বিজিবি পত্নীঅতলা অধিনায়ক লে. কর্নেল ইত্তেফাককে বলেন, ‌'যেহেতু তাদের আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। তাই বাংলাদেশি পুলিশকে আটককৃতদের ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিতে হবে। বিএসএফ যদি তাদের আটক করতো তখন বিজিবি বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থাগ্রহণ করতো। তারপরও ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আটকের পর বামনগোলা থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।'
 
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম বলেন, 'যেহেতু সীমান্তে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে আটক করেছে সেহেতু বিজিবিকেই আটককৃতদের ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।'