দেশের মোট জনসংখ্যার ৩২ দশমিক ৩ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। জনগোষ্ঠীর পরনির্ভরশীলতার অনুপাত কমেছে ব্যপক হারে। ২০০২ সালে এ হার ছিল ৮০ ভাগ, ২০১৩ সালে কমে হয়েছে হয়েছে ৫৮। অর্থাত্, ২০০২ থেকে ২০১৩ সময়কালে দেশের এ সময়ে পরনির্ভরশীলতার হার কমেছে ৩১ শতাংশ। তবে পরিবার নিয়ন্ত্রণে নারীদের তুলনায় পুরুষরা এগিয়ে। বাংলাদেশে শতকরা ৮৮ ভাগ পরিবারের খানা প্রধান হচ্ছে পুরুষ। মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এসভিআরএস রিপোর্ট ২০১৩) শিরোনামে প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদনের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব এম এ মান্নান ও বিবিএসর অতিরিক্ত মহাপরিচালক বাইতুল আমিন ভূইঁয়া। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক।
আদমশুমারি-পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে বছরজুড়ে জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ও স্থানান্তর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ জন্মশীলতার কারণে দেশে কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়েছে। বয়স্ক শিক্ষার হার বেড়েছে। ২০০৯ সালে বয়স্ক শিক্ষার হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬০ ভাগে। জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে শহরের জনগোষ্ঠী ৩০ শতাংশ বেশি শিক্ষিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থূল জন্মহার প্রতি হাজারে ১৯ জন। প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্রাম এলাকার স্থূল জন্মহার (১৯.৩) শহর এলাকার জন্মহারের (১৮.২) চেয়ে বেশি। মোট প্রজনন হার ২০১৩ সালে পাওয়া গিয়েছে ২ দশমিক ১১, যা ২০১২ সালে ছিল ২ দশমিক ১২। ২০১৩ সালের মোট প্রজনন হার ২০১২ সালের মোট প্রজনন হারের থেকে সামান্য কম। জন্মশীলতার সবগুলো পরিমাপ তুলনা করলে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জন্মের হার অনেক কমেছে। অন্যদিকে মৃত্যুর হার প্রতি হাজার জনসংখ্যায় ৫ দশমিক ৩ জন, যা পল্লী এলাকায় ৫ দশমিক ৬ জন এবং শহর এলাকায় ৪ দশমিক ৬ জন। ২০০৯ সালে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৮, যা ২০১৩ সালে কমেছে ৫ দশমিক ৩ জনে।
শিশু মৃত্যুর হারের (১ বেসরর নিচে) একই প্রণতা লক্ষ করা যায়। শিশু মৃত্যু হার ২০০৯ সালে ছিল ৩৯ প্রতি হাজার জীবিত জন্মের ক্ষেত্রে এবং এই হার ২০১৩ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ এ। মাতৃ মৃত্যুর অনুপাত গত পাঁচ বছরে সমহারে কমে এসেছে। ২০০৯ সালে মাতৃ মৃত্যুর অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৫৯ যা ২০১৩ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৭ এ। গত পাঁচ বছরে প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল গড়ে প্রতি বছরে শূন্য দশমিক ৬৪ বছর হারে বেড়েছে। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ২০০৯ সালের ৬৭ দশমিক ২ বছর থেকে বেড়ে ৭০ দশমিক ৪ বছর হয়েছে। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের গড় আয়ু বেশী বেড়েছে।
বিবাহের গড় বয়স:
গত পাঁচ বছরের বিবাহের গড় বয়স প্রায় স্থীতি অবস্থায় রয়েছে। ২০০৯ সালে পুরুষের বিবাহের গড় বয়স ছিল ২৩ দশকি ৮ বছর এবং মহিলাদের বিবাহের গড় বয়স ছিল ১৮ দশকি ৫ বছর। ২০১৩ সালে পুরুষের বিবাহের গড় বয়স হয়েছে ২৪ দশমিক ৩ বছর এবং মহিলাদের বিবাহের গড় বয়স হয়েছে ১৮ দশমিক ৪ বছর।
জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার:
গত পাঁচ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার বেশ বেড়েছে। ২০০৯ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ছিল ৫৬.৪ শতাংশ। অন্য দিকে, ২০১৩ সালে এই হার হয়েছে ৬২.৪ শতাংশ।
প্রতিবন্ধী:
এসভিআরএস নমুনা এলাকা থেকে সংগৃহীত তথ্য থেকে প্রস্তুতকৃত ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৯ জন মানুষ কোন না কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। মহিলাদের চেয়ে পুরুষদের মধ্যে প্রতিবন্ধীর হার বেশি। ২০১৩ সালে পুরুষ প্রতিবন্ধীর হার প্রতি হাজারে ৯ দশমিক ৭ জন এবং মহিলা প্রতিবন্ধীর হার ৮ দশমিক ২ জন, প্রতি হাজারে।
এইচআইভি/এইডস:
বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৩ সাল থেকে প্রথমবারের মতো এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের ক্ষেত্রে ১৫-৪৯ বছরের মহিলাদের জ্ঞান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাপ্ত ফলাফল থেকে দেখা যায় মাত্র ১৯ ভাগ মহিলা এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের সব পদ্ধতি সম্পর্কে জানে কিন্তু এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের যে কোনো একটি পদ্ধতি সম্পর্কে শতকরা ৬০ ভাগ মহিলা জানে।
আগমন ও বহির্গমন:
এসভিআরএস জরিপ এলাকায় বসবাসরত জনগণের আগমন ও বহির্গমণ চিত্র প্রায় একই রকম। ২০১৩ সালের জন্য তথ্যানুযায়ী প্রতি হাজার জনসংখ্যার জন্য আগমনের হার ৪০ দশমিক ৪ জন এবং বহির্গমণের হার ৩৯ দশমিক ৯ জন। অর্থাত্ প্রতি হাজার জনসংখ্যার ক্ষেত্রে নিট মাইগ্রেশনের হার মাত্র শুন্য দশমিক ৫ জন। প্রতি হাজার জনসংখ্যার ক্ষেত্রে পল্লী এলাকায় আগমনের হারের (৩১.৭ জন) তুলনায় শহর এলকায় আগমনের হার (৭০.৪ জন) অনেক বেশি।
