অ্যালায়েন্সের পর এবার ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ডের মধ্যস্থতায়ও ঋণ পেতে যাচ্ছেন গার্মেন্টস মালিকরা। এ লক্ষ্যে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) ৫ কোটি ডলার বা ৩৯০ কোটি টাকা দেবে। বাংলাদেশের ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণের অর্থ দেয়া হবে। অ্যাকর্ড পরিদর্শন করেছে এমন কারখানার ভবন ও বৈদ্যুতিরক সংস্কারে স্বল্প সুদে কারখানা মালিকরা এ ঋণ নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার অ্যাকর্ডের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ বলেন, কারখানা মালিকরা দীর্ঘদিন থেকেই সংস্কার কাজে অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। ফলে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো অর্থায়ন সুবিধার আওতায় আসল, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্য দিকে, অ্যাকর্ডের এ উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন কারখানা মালিকরাও।
এর আগে গত সপ্তাহে অ্যালায়েন্সের মধ্যস্থতায় একই পরিমান অর্থ (৩৯০ কোটি টাকা) দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে আইএফসি। ওই অর্থ দিয়ে অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনকৃত গার্মেন্টস কারখানা সংস্কারে সংশ্লিষ্ট মালিকরা ঋণ নিতে পারবেন। অর্থাত্ উভয় জোটের মধ্যস্থতায় আইএফসি ৭৮০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী নানামূখী চাপে বিদেশি ক্রেতারা জোটবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস কারখানার অগ্নি ও ভবনের কাঠামোগত ত্রুটি চিহ্নিত করার কার্যক্রম শুরু করে। ইউরোপের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত জোট অ্যকর্ড অন ফায়ার এন্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড) ১ হাজার ৭০০ কারখানা ও অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি (অ্যালায়েন্স) ৬০০ কারখানা পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। সাড়ে ৩ হাজার কারখানার মধ্যে বাদবাকি কারখানা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিদর্শন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনে এরই মধ্যে প্রায় ৩৫টি গার্মেন্টস কারখানা ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বাকি কারখানাগুলোকে বিভিন্ন মেয়াদে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে কারখানা সংস্কারে সিপ্রঙ্কলার, ফায়ার ডোরসহ কিছু যন্ত্রপাতি উচ্চ মূল্যের কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানার পক্ষে তা যথা সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কারখানা মালিকরা এ জন্য অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সকে অর্থায়ন করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। এ নিয়ে কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা প্রায়ই বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতিতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের সমালোচনা করে আসছিলেন।
তবে অ্যাকর্ডের মধ্যস্থতায় আইএফসির এ উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কারখানা সংস্কারে মূলত অর্থায়নই মূল বাধা ছিল। স্বল্প সুদে ঋণ পেলে এখন কারখানা সংস্কারে গতি আসবে। একই সঙ্গে এ ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশের বেশি হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অ্যাকর্ডের স্বাক্ষরকারি ক্রেতার সংখ্যা ২০০। এসব কোম্পানি ৫ বছর ধরে বাংলাদেশে কারখানা সংস্কার প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকতে আইনগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
