মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আস্থা ও বিশ্বাস তাদের ওপর দেখিয়েছেন, তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন তারা। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দুর্নীতি দূর ও গতিশীলতা আরো বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণেরও প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
মঙ্গলবার বঙ্গভবনে মন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান খান কামাল, ইয়াফেস ওসমান ও নূরুল ইসলাম বিএসসি শপথ নেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নূরুজ্জামান আহমেদ। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাদের দপ্তর বণ্টন করা হয়। মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা গতকাল বুধবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যান। বেলা ১১টায় বৃষ্টির মধ্যেই তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে ও পরে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। কোন জঙ্গিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি চলবে। যেখানেই জনতা সমস্যায় পড়বে, সেখানেই পুলিশ তার পাশে দাঁড়াবে। সিলেটে চোর সন্দেহে পিটিয়ে শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজন হত্যা মামলায় যারা ভিডিও ধারণ করেছে, তারা একবারও মনে করেনি যে পুলিশ প্রশাসন, সমাজপতি কাউকে খবর দিতে হবে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি সাংবাদিকদের বলেন, মানবপাচার রোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। জনশক্তি খাত নিয়ে যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে তা চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ, স্বজনপ্রীতি-দুর্নীতি যাতে আমার মন্ত্রণালয়ে না হয় সেটা নিশ্চিত করা। এ জন্য আমি আমার সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন তিনি।
গম কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নূরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়ার মত কোনো সুযোগ যাতে না থাকে, সে জন্য আমি সর্বোচ্চ সতর্ক থাকব। গমের বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত করবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার পর এ বিষয়ে বলতে পারব। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।