‘৯৯ ভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস দেয়া হয়েছে’

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৫, ১৮:৩৮
 
তৈরি পোশাক শিল্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ কারখানায় কোনো রকমের বড় ঝামেলা ছাড়াই বেতন-বোনাস প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
 
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার সংগঠনের সভপতি মো. আতিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
 
বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ দ্বিতীয় সহসভাপতি এস এম মান্নান (কচি), সহসভাপতি মো. শাহিদউল্লাহ আজিম পমুখ।
 
আতিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠভাবে বেতন ভাতাদি পায়, সে লক্ষে সরকার এবং বিজিএমইএ মিলে অগ্রীম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ হতে পারে এ রকম ১৫০০ ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছিল এবং সমস্যার ধরন বুঝে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিদর্শন করা হয়েছে ১৪৮৯টি কারখানা। এর মধ্যে জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ১৪৮৭টি কারখানা, ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ১৪৮৩টি কারখানা এবং জুলাই মাসের আংশিক বেতন পরিশোধ করেছে ৩১৫টি কারখানা।
 
এ ছাড়া, ২টি কারখানার বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন আছে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় ৩৫টি কারখানায় সমস্যা সমাধান করেছে। বিজিএমইএর তথ্য মতে সোয়ান গার্মেন্টস ছাড়া ৪টি কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন আছে।
 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—গিতানো ও গার্মেক্স এ দুটি কারখানা তাদের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে পারেনি। সোয়ান গার্মেন্টস বিষয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, এটার নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। কারণ, এটা এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালত যা বলবে, তা-ই হবে। আর এ বিষয়ে একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে।
 
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তৈরি পোশাকের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে আতিকুল ইসলাম বলেন, পোশাক খাত সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে অবস্থান করছে। এখনো গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কাটেনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি যেখানে বেড়েছে, সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে।
 
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক খাতে পাকিস্তানে ৭.৪৬ শতাংশ, ভারতে ১০.৪৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ১২.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। সেখানে বাংলাদেশে বেড়েছে ২.৯৮ শতাংশ।
 
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঢাকাস্থ বিজিএমইএ কার্যালয়ে ক্রাইসিস কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকলের সহযোগিতায় ১৫টি আঞ্চলিক কমিটি এবং কন্ট্রোল রুম ও সমন্বয় সেল এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে যথাযথভাবে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ সম্পন্ন হচ্ছে। ঈদে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করে সে ব্যাপারে নজরদারি জোরদারের জন্য সরকারের নিকট আহ্বান জানানো হয়।