থানায় নয়, বাসায় মাদক নিতে বলেছে ওসি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ২২:৩৮

৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ আসামি আটকের পরেও নেয়া হয়নি থানায়। ওসির নির্দেশে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এএসআই আলম সরোয়ার্দি তাদেরকে নিয়ে যান নিজ বাসায়। পরে আসামিদের ছেড়ে দেয়া হলেও ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকা নিজ হেফাজতে রাখেন তিনি। সেখান থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এনে রাস্তা থেকে আরেকজনকে ধরে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেয়া পুলিশের দুই সদস্যের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আসামিদের একাধিক জবানবন্দির এই তথ্য পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট সদর থানার ওসি কামরুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য পুলিশের আইজি ও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল সোমবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেছে, ইয়াবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই নির্দেশ দেয়া হলো। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজিম উদ্দিন আজাদ এ মামলার তদন্ত করছেন। তলব আদেশে গতকাল তিনি হাইকোর্টে হাজির হন।

গত বছরের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার রুপালি আবাসিক এলাকা থেকে সদর মডেল থানার এএসআই সরোয়ার্দি ও মাদকবহনকারী সাবিনা আক্তার রুনুকে ইয়াবা ও টাকাসহ গ্রেপ্তার করেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মোঃ মাসুদ রানা। সরোয়ার্দির বাসা থেকে মাদক উদ্ধারের পরদিনই বন্দর থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

ওই মামলায় দেয়া জবানবন্দিতে আসামি আলম সরোয়ার্দি বলেছেন, ওসিকে অবহিত করার পর তিনি আমাকে মদনপুরে আসামি ধরতে যেতে বলেন। এরপরই সোর্স রিয়েলকে নিয়ে মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে যাই। সেখানে রুনুকে দেখতে পাই। এ সময় দুটি ছেলে রুনুর দিকে যায়। এদের একজনের হাতে বাজারের ব্যাগ ছিল। তখন আমি সোর্স রিয়েলসহ রুনু ও ব্যাগ হাতে ছেলেটাকে আটক করি। বাকিরা পালিয়ে যায়। তাদের সিএনজিতে উঠানোর পর মুন্সিগঞ্জ ডিবিতে কর্মরত এসআই মোর্শেদ আমাকে ফোন দিলে আমি রিসিভ করিনি। পরে সে রুনুকে ফোন দিয়ে আমাদের থামতে বলে। তখন আমি মোর্শেদের কথা ওসিকে জানাই। এরপর ওসিকে ফোন দিলে উনি আমাকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলেন। এরপর ঘাটের কাছেই বাসা হওয়ায় আমি আসামিসহ আমার বাসায় চলে যাই। পরে ওসি আলামত (৪৯ হাজার পিস ইয়াবা) ও টাকা রেখে রুনুসহ দু’জনকে মোর্শেদের কাছে দিতে বলেন। মোর্শেদ রুনুকে নিয়ে বাসার নিচে যাওয়ার পর আমাকে ফোন দিয়ে অপর আসামিকে ছেড়ে দিতে বলে। আসামি ছেড়ে দেওয়ার আগে আমি আলামত ও টাকা রেখে দেই। ওই আলামত থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এনে ওসির কথামত জনি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি। রাতে ডিবি অভিযান চালিয়ে আলামত ও টাকা জব্দ করে।

হাইকোর্টে আসাদুজ্জামানের জামিন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সুজিত চ্যাটর্জি ও রাষ্ট্রপক্ষে ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন। সুজিত চ্যাটার্জি বলেন, এই মামলায় ৮ জন আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ওসির সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে। আমি মনে করি পুলিশের একটি চক্র এর সঙ্গে জড়িত।