আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৫, ০০:৪১

‘রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ’-এই সুর লহরী এখন ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশ বাতাস মন্দ্রিত করে। মনপ্রাণ ভরে উঠছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে। রমজানের রোজার শেষে খুশির সওগাত নিয়ে আসছে ঈদ উল ফিতর। আজ শুক্রবার শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল শনিবার সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও উত্সাহ-উদ্দীপনায় উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। তবে রমজান মাস ৩০ দিন হলে ঈদ হবে আরো একদিন পরে রবিবার।

 
প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, চাঁদ দেখে রোজা পালন করবে এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করবে। তিনি বলেছেন, চান্দ্র মাস ২৯ দিনেও হয় আবার ৩০ দিনেও হয়। যদি আকাশে মেঘ থাকায় চাঁদ দেখা না যায় তবে ৩০ দিনের গণনা পূর্ণ করবে।
 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন, সংযম সাধনার পর ঈদের দিনে রোজাদারগণ শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যান।
 
ঈদ উল ফিতর আরবি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে উত্সব, আনন্দ, খুশি। রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানের অবসানে নতুন চাঁদ দেখামাত্র ছোট-বড়, ধনী-গরীব, প্রতিটি মুসলমানের হূদয় আনন্দে উদ্বেল হয়ে ওঠে। এই দিনে ধনী-গরীব, বাদশা-ফকির নির্বিশেষে সব মুসলমান এক কাতারে ঈদের নামাজ আদায় করে, একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে। ঈদ মুসলিম উম্মাহর জাতীয় উত্সব। ঈদ উল ফিতরের দিনটি প্রতিটি মুসলমান নারী ও পুরুষের জীবনে তাত্পর্যে ও মহিমায় অনন্য।
 
আইয়্যামে জাহেলিয়াত বা ইসলাম প্রাক্কালীন যুগেও আরবে ‘নওরোয’ ও ‘মেহেরজান’ নামক দুইটি বাত্সরিক উত্সব ছিল অধিক জনপ্রিয়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করে দেখতে পান যে, এই দুইটি জাতীয় উত্সবে মদীনার আবালবৃদ্ধবনিতা নানা প্রকার স্থূল খেলায় মেতে উGVGQ| ZLb gnvbex mvÍÏvÍÏvü AvjvGn Iqv mvÍÏvg ZvG`i jÞÅnxb Avb±`-DrmGei ˆmB পদ্ধতির পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির পবিত্র স্পর্শমণ্ডিত এবং বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদ-উল-ফিতরের কথা ঘোষণা করলেন। তিনি বললেনঃ লিকুল্লি কওমিন ঈদ, হা-যা ঈদুনা-অর্থাত্ প্রত্যেক জাতির বাত্সরিক আনন্দ-ফূর্তির দিন আছে। ঈদের দিন হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ-উত্সবের দিন। এইভাবেই হিজরী দ্বিতীয় বর্ষে প্রবর্তিত হ’ল ঈদ।
 
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়: ‘আজি আরাফাত ময়দান পাতা গায়ে গায়ে,/কোলাকুলি করে বাদশাহ্ ফকিরে, ভায়ে ভায়ে’।
 
একমাস রোজার শেষে ঈদের আনন্দ প্রতিটি মানুষের মনে খুশির দ্যোতনা ছড়ালেও দরিদ্ররা কি সেই আনন্দ ভেলায় ভাসতে পারছে? কবির কণ্ঠে তাই ধ্বনিত হয়েছে: “জীবনে যাদের হররোজ রোজা ক্ষুধায় আসে না নিদ/মুমূর্ষু সেই কৃষকের ঘরে এসেছে কি আজ ঈদ?”
 
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক বিবৃতিতে দেশবাসীর প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
 
শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ঈদুল ফিতরের শিক্ষা আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর অপার খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি আর ঐক্যের বন্ধন।
 
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর সকলের জন্য আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর—এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। ঈদ শান্তি সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয় এবং সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সকল মানুষকে।
 
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
 
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদুল ফিতর সমাগত। বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় উত্সব ঈদুল ফিতর। এই ধর্মীয় উত্সবে সমাজের সকল ভেদরেখা ও সীমানা অতিক্রম করে মানুষে-মানুষে মহামিলন ঘটায় ও সৃষ্টি করে পরস্পরের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছাবোধ।
 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উত্সব হলো ঈদুল ফিতর। সাওয়ালের চাঁদ আমাদের মাঝে নিয়ে আসে খুশি ও আনন্দের ফল্গুধারা।