বিদায় মাহে রমজান

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৫, ০২:১৫

আজ ২৯ রমজান। আজ শওয়ালের চাঁদ উঠলে কাল ঈদুল ফিতর। আজ রমজান মাসের শেষ জুমু’আর দিন। মুসলিম মননে এদিনের মরতবা অনেক। বছরের সেরা মাস হচ্ছে রমাদান মাস আর সপ্তাহের সেরা দিন হচ্ছে ইয়াওমুল জুমু’আ অর্থাত্ জুমুআর দিন। প্রতিবছর মাহে রমাদানে এই দুইয়ের মিলন ঘটে। যে কারণে প্রতিবছর রমাদানের শেষ শুক্রবারে জুমু’আর সালাতে  মুসল্লীগণের বিশাল সমাবেশ ঘটে। ইমাম সাহেব জুমু’আর খুতবায় যখন বলেন: বিদায় বিদায় হে রমজান। তুমি এসেছিলে রহমত, মাগফিরাত ও দোযখের আগুন থেকে নাজাতের বারতা নিয়ে। তোমার ভেতর ছিল হাজার মাস্ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রজনী লায়লাতুল কদর। সাহরী, ইফ্তার ও তারাবী অনুসঙ্গ পূর্ণ সিয়ামের জৌলুসে তুমি সায়িমকে জীবন বোধের নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছো। রমাদান তোমাতে যে বরকত থাকে যা অন্য কিছুতে থাকে না। এই বিদায় উচ্চারণ শুনে সারা মসজিদ বা ঈদগাহে বিরহ-বেদনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

 
রমাদানকে আলবিদা জানানোর মধ্য দিয়ে সিয়াম পালনের অবসান ঘটানো হয় এক বছরের জন্য। রমাদানের অবসান ঘটে শওয়ালের চাঁদ দেখার মধ্য দিয়ে।
 
১ শওয়াল প্রত্যুষে শরীর ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করে সাধ্যিমতো উত্তম কাপড় পরিধান করতে হবে। আতর মাখতে হবে। ঈদের সালাত আদায়ের জন্য রওনা হবার পূর্বে খোরমা কিম্বা মিষ্টান্ন খাওয়া সুন্নত। সকাল বেলাতেই ফিত্রা বণ্টন করা সুন্নত। ঈদগাহ্ বা মসজিদে এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করা সুন্নত। যাবার সময় মৃদু আওয়াজে যে তক্বীর উচ্চারণ করতে হয় তা হচ্ছে: আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর লাইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ্।
 

ইয়াওমুল ঈদ আনন্দ করবার ও আনন্দ বিলাবার দিন। এদিন মানবিক মূল্যবোধে অবগাহন করবার দিন। এদিন মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যেয়ে সবার সঙ্গে আত্মীয়তার বন্ধনে অভিষিক্ত হবার দিন। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: সকল জাতিরই আনন্দ-উত্সব আছে। আমাদের আনন্দ-উত্সব এই ঈদ।