কুমিল্লায় প্রবল বর্ষণে ঈদ আনন্দে ভাটা

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৫, ১৯:০৮
 
 
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণে ভাটা পড়েছে কুমিল্লার ঈদ আনন্দে।
 
সকাল থেকে মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে ঈদের নামাজ আদায় করা নিয়ে বিপাকে পড়েন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রবল বর্ষণে ঈদগাহে অনেকের নামাজ আদায় করা সম্ভব হয়নি। ঈদের নামাজ উপলক্ষে প্রতিটি ঈদগাহে গতানুগতিক প্রস্তুতি নিলেও বর্ষার কথা মাথায় না রেখে বেশির ভাগ ঈদগাহে যথাযথ প্রস্তুতি না নেয়ায় প্রবল বর্ষণে সেইসব ঈদগাহগুলোতে মুসল্লিদের প্রবেশের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার ফলে অনেক মুসল্লিরা তাদের স্ব-স্ব মসজিদের ভিতরে ঈদের নামাজ আদায় করেন আবার কেউ কেউ নিজ ঘরেই নামাজ আদায় করেন।
 
মহানগরীর প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় কুমিল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন সিটিকর্পোরেশনের ঈদগাহ মাঠে। ওই মাঠেও বর্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ঈদের নামাজ আদায় করতে এসে বিপাকে পড়ে মুসল্লীরা। প্রথমেই হালকা বর্ষার মধ্য দিয়ে ঈদের প্রথম জামাত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর ভারী বর্ষণে ভিজে যায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা।
 
বৈরী আবহাওয়ায় বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ শেষে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সকল মানুষের উন্নতি সমৃদ্ধি সুখ শান্তি আখেরাতের নাজাত ও মুক্তি কামনা করে হাজার হাজার মুসল্লি মহান আল্লাহ তাল্লার দরবারে মোনাজাত  করেন । 
সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, কুমিল্লা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুর রউফসহ সর্বসাধারণ মুসল্লিদের সাথে ঈদের জামাতে অংশগ্রহন করেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই সর্ব সাধারণের।
বৃষ্টিতে ভিজে নামাজ আদায় শেষে ফারুক হোসেন নামে এক মুসল্লী জানান, ‘এটা কোন কথা হতে পারে? মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উত্সবের নামাজ আদায় করতে এসেও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। পুরো মাস জুড়ে বর্ষা চলছে। তা জেনেও কেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি সিটি কর্পোরেশন’।
জেলার চান্দিনা উপজেলার সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার মোকাবাড়ি শাহী ঈদগাহ মাঠে। ওই ঈদগাহে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণ ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন। শনিবার সকাল ৯টায় প্রথম জামায়াত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ৭টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ভেস্তে গেছে ঈদগাহের জামায়াত। পরে মসজিদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লীরা।
সাংবাদিক মামুনুর রশিদ সরকার জানান, আমরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নিজ গ্রাম দেবিদ্বারের সুলতান ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে বাড়িতে যাই। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ঈদগাহে ঈদের জামাত হয়নি। পরে গ্রামের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করি।
একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে মহানগরীর বিভিন্ন ঈদগাহ সহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১৮৯টি ঈদগাহে।
অপরদিকে ঈদের নামাজ শেষে নিজ নিজ ঘরে সাধ্যমত খাবার খেয়ে ঘুরতে বের হয় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ। কিন্তু প্রবল বর্ষণে ঘর থেকে বের হওয়ার উপক্রম না থাকায় অনেকের মাঝে চাপা ক্ষোভ দেখা গেছে।