শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে ঈদের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈদে চাই নতুন জামা-কাপড়। চাই বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনের সান্নিধ্য।
মেহেরপুর জেলা শহরে একটি ও মুজিবনগর কমপ্লেক্সে আরো একটি সরকারি শিশু পরিবার রয়েছে। মেহেরপুর শহরের শিশু পরিবারে রয়েছে ৯৭ জন ছেলে শিশু আর মুজিবনগর কমপ্লেক্সে রয়েছে ৯৫ জন মেয়ে শিশুর আবাসন। এবারও ঈদে সরকারিভাবে তাদের দেওয়া হয়েছে নতুন পোশাক। তাদের জন্য করা হয়েছে উন্নত মানের খাবার ব্যবস্থা। কিন্তু এত আনন্দের মাঝেও তাদের মনের মধ্যে রয়েছে একটুখানি কষ্ট। সে কষ্টটা আর অন্য কিছু না। ঈদে মা-বাবা কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে কাছে না পাওয়ার কষ্ট।
মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসী শিশু মানিকসহ কয়েকজন শিশু জানালো, চার দেওয়ালের মধ্যে তাদের ঈদ ভালো লাগেনা। তাদের মত নিবাসী শিশুদের কারো মা-বাবা দুজনের একজন আছে। কারো দুজনই নেই। ঈদে তাদের মা-বাবা, অত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদ করতে ইচ্ছা করে।
মুজিবনগর কমপ্লেক্স সরকারি শিশু পরিবারের শিশু আসমা খাতুন জানালো- ফাঁকা মাঠ আর চার দেওয়ালের মধ্যে তাদের ঈদ আয়োজন। শুনেছি জেলখানার কয়েদীদের ঈদ এমনই। এ বয়সের আমাদের মত শিশুরা বাড়িতে মা কিংবা বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ঈদ করলে আরো বেশি আনন্দ করতে পারতাম।
ওই পরিবারের নিবাসী শিশু শাহনাজ খাতুন ও মাহফুজা খাতুন জানায়, এবার ঈদে স্কুল ড্রেস, নতুন জামা ও কসমেটিক্স পেয়েছি। তারপরও যেন পরাধীনভাবে ঈদ করছি আমরা। পরিবারের সাথে ঈদ করতে পারলে ভাল লাগত।
মেহেরপুর সরকারি শিশু পরিবারের ইন্সট্রাক্টর মানসার আলী মামুন জানান, গ্রামের বাড়িতে তার সবাই আছে। তার পরও শিশু পরিবারের নিবাসী শিশুদের ফেলে বাড়ি গিয়ে ঈদ করতে ভাল লাগে না। তাই বাড়ি না গিয়ে শিশুদের সাথে ঈদ করছি।
মুজিবনগর শিশু পরিবারের সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ শিশু পরিবারের ৯৫ জন নিবাসীর মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ করা হয়েছে। তাদের দেওয়া হয়েছে চুড়ি ও মেহেদিসহ সবধরনের কসমেট্রিক্স। দেওয়া হয়েছে স্কুল ড্রেস ও কেডস। এছাড়াও ঈদের দিন উন্নত খাবার হিসেবে সকালে সেমাই, লুচি-মাংস, দুপুরে পোলাও মাংস ও রাতে সাদা ভাত মাংস থাকবে। এছাড়াও তাদের জন্য থাকছে বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়াও আমরা তাদের সাথে থেকে তাদের দুঃখ ভুলিয়ে রাখতে চেষ্টা করি।
