‘বর্তমানে জটিল পাঠ্যপুস্তক দিয়ে শিক্ষার্থীদের অসহায় করে রাখা হয়েছে। এখন আমরা যদি ভালো বই, শিক্ষক দিতে না পারি, তাহলে তো আমরাই শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে যেতে ফোর্স করছি। এখন একটা ভালো বই দিতে পারলে গরীবের ছেলে মেয়েরা কোচিং পর্যন্ত যেতে না পারলেও পিছিয়ে থাকবে না।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফল এডুকেশন রিচার্স (সিইআর) আয়োজিত ‘শিক্ষাক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
তিনি আরো বলেন, পাঁচ বছর পর পর কারিকুলাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বেসিক বিষয়গুলোর তেমন পরিবর্তন হয় না। কারিকুলাম পরিবর্তন না করে যুগোপযোগী করেই দীর্ঘদিন পড়ানো সম্ভব। তবে সবার আগে একটি ভালো মানের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা দরকার। কারণ দুর্বোধ্য পাঠ্যপুস্তকই আমাদের বড় সমস্যা।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারিক আহসান বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু আমাদের দেশে সেটা হচ্ছে না।
বিডিজবস এর উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর বলেন, গত ১০ বছরে যেভাবে গ্রাজুয়েট বেড়েছে, সে অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র বাড়েনি। এজন্য শিক্ষাখাতেও নতুন উদ্যোক্তা প্রয়োজন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, শিক্ষকরা ক্লাসে আসেন, সিলেবাস শেষ করেন, কিন্তু শিক্ষার্থীরা কিছুই শেখে না। এটা আমাদের খুবই বড় সমস্যা।
অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘কোচিং সেন্টারের মালিক সবচেয়ে খারাপ পরিচয় বলে সবাই মনে করে। অথচ প্রায় সব অভিভাবকই তাদের সন্তানকে কোচিংয়ে পাঠান। শিক্ষার্থীরা কেন কোচিংয়ে আসে সে চিন্তা না করে শুধু কোচিংয়ের দোষ দেওয়া হয়। আজকের অনেক জনপ্রিয় শিক্ষক, তারা কোচিং সেন্টারেরই তৈরি। অতএব, যারা কোচিং পরিচালনা করেন, তারাও একজন উদ্যোক্তা।’
সিইআর এর আহ্বায়ক মুনীর হাসানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, লেখক ও সাংবাদিক আব্দুল কাইয়ুম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের মো. মুরশিদ আকতার প্রমুখ।
