পুরান ঢাকায় রাসায়নিক গোডাউন ও কারখানা উচ্ছেদের জন্য টাস্কফোর্সের অভিযানের চতুর্থ দিনে গতকাল
সোমবার সকাল থেকে চকবাজার, হাজারীবাগ, তাঁতিবাজার, বংশাল, ইসলামবাগ, লালবাগ এলাকায় আরও ২৯টি ভবনের পরিষেবা (গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানি লাইন) বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এই নিয়ে গত চার দিনে মোট ৭৬টি ভবনের পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হলো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে টাস্কফোর্সের পাঁচটি টিম পৃথক অভিযান চালাচ্ছে পুুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল তাঁতিবাজার এলাকায় ৭টি, হাজারীবাগের নীলাম্বর এবং মনেস্বর রোড এলাকায় ৮টি, হরনাথ ঘোষ ও নন্দকুমার দত্ত রোডের ৮টি, চকবাজার আলুবাজার এলাকার ৬টিসহ মোট ২৯টি রাসায়নিক গোডাউন ও কারখানার বাড়ির পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গোডাউন উচ্ছেদে একসঙ্গে পাঁচ জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টাস্কফোর্স। অভিযান চলবে ১ এপ্রিল পর্যন্ত।
গতকাল আলুবাজার এলাকায় থেকে দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানকারী টিমের সদস্যরা স্থানীয় আমিন হাজির ৯৩/৯৮, ওসমানের ৯৬ নম্বর, মো. ইফরানের ৯৫ নম্বর এবং মো. হানিফের ৯৩ নম্বর ভবনের নিচ তলার চারটি প্লাস্টিকের কারখানার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এসব কারখানার মালিক শফিক ও সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে শফিক বলেন, তার কারখানায় জিআই পাইপ তৈরি হয়। এতে কোনো কেমিক্যাল নেই। পাইপ থেকে আগুনও ছড়ায় না। তবুও তার কারখানার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অনেকটা একই ধরনের কথা বলেন, সাইফুল ইসলাম। তবে অভিযানকারীরা বলেন, এসব কারখানায় কেমিক্যাল ও দাহ্য পদার্থ থাকায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এছাড়া অভিযান পরিচালনাকারী অপর টিমের প্রধান ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরিফ আহমেদের নেতৃতে একটি দল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চকবাজার হরনাথ ঘোষ রোডে অভিযান শুরু করে। এ সময় অভিযানের শুরুতেই হরনাথ ঘোষ রোডের ৯৫/৫ নম্বর ভবনের একটি এক তলা বাড়ির সামনের অংশের কয়েকটি কক্ষ নিয়ে গড়ে তোলা দাহ্য পদার্থের গোডাউন পান তারা। এরপর এই গোডাউন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তারা।
